Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / নোয়াখালী / হত্যা মামলার রাজসাক্ষী না হওয়ায় কারাগারে যুবক! - Chief TV

হত্যা মামলার রাজসাক্ষী না হওয়ায় কারাগারে যুবক! - Chief TV

2025-12-06  ডেস্ক রিপোর্ট  174 views
হত্যা মামলার রাজসাক্ষী না হওয়ায় কারাগারে যুবক! - Chief TV

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হত্যা মামলার রাজসাক্ষী হতে না চাওয়ায় এক যুবককে আসামি করা হয়েছে। হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম মো. ইসমাইল হোসেন দিদার। তিনি উপজেলার আমিশাপাড়া বাজারের একজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী। বর্তমানে দিদারকে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) মামলার বাদীর পরিবারের সঙ্গে কথা হলে এসব তথ্য সামনে আসে।

জানা যায়, পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম সোনাইমুড়ীর আমিশাপাড়া বাজারে বেকারির ব্যবসা করতেন। গত কয়েকদিন পূর্বে তার সঙ্গে সুদের টাকার দেনা-পাওনা নিয়ে আমিশাপাড়ার সুদি নান্টু নামের এক ব্যক্তির মারামারি হয়। তারই জেরে গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে আমিশাপাড়া বাজারের জনসম্মুখে আব্দুর রহিমকে মারধর করে নান্টু বাহিনী। পরে তাকে একটি দোকান আটকে রাখে নান্টুর সদস্যরা। ওই অবস্থায় নান্টুর শর্ত মেনে নিয়ে রহিমকে উদ্ধার করেন বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন দিদার। পরে তাকে আমিশাপাড়া সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসা দিয়ে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। ওই দিন অসুস্থ হয়ে মাইজদি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুর রহিম।

নিহত আব্দুর রহিমের পরিবার জানায়, মারামারির বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। তাদের স্বজন স্ট্রোক করে মারা গেছেন এমনটাই জানতেন। পরে হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে পারিবারিকভাবে দাফন-জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। জানাজার আগ মুহূর্তে আমিশাপাড়া বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ ইসমাইল হোসেন দিদার সেখানে উপস্থিত হন। এসময় তিনি নিহতের পরিবারের কাছে আব্দুর রহিমের ওপরে হওয়া নির্যাতনের তথ্য দেন। পরে লাশ দাফন না করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের মতলবপুরের মিয়াজী বাড়িতে নিহত আব্দুর রহমানের জন্য দোয়া-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসময় প্রতিবেদক সেখানে উপস্থিত হলে কথা হয় নিহতের স্বজনদের সঙ্গে।

এসময় আব্দুর রহিমের বোনের জামাতা বাবুল ও নিকটাত্মীয় মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মামলায় মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। তার মধ্যে দিদার গ্রেপ্তার হয়েছে। যদিও আমরা জানি তিনি নির্দোষ এর পরেও মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আমরা জানাজার দিনে তাকে সাক্ষী করে হত্যা মামলা করার প্রস্তাব করলে তিনি সাক্ষ্য দিতে রাজি হননি। এখন তিনি মামলার আসামি। যদি তিনি রাজসাক্ষী হয়ে যান তবে তাকে যাবতীয় সহযোগিতা করা হবে। যেহেতু মামলার সাক্ষীরা কেউই আমিশাপাড়ায় ওই সময় ছিলেন না, এজন্য আমাদের বাধ্য হয়ে তাকে আসামি করতে হয়েছে। আমরা অনেক ব্যবসায়ীর কাছে সাক্ষী হওয়ার অনুরোধ করেছিলাম; কিন্তু রাজি হয়নি।’

মামলার এজাহারে দেখা যায়, সেখানে সাক্ষী হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে নিহত আব্দুর রহিমের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মো. মিনহাজ হোসেন(১৭), মো. ফজলে আজিম (৪২) ও এনামুল হক ভূঁইয়া। যারা সবাই লক্ষ্মীপুর সদরের বাসিন্দা। তারা জানান, মামলার বাদী জোবেদা খাতুন ও ছেলে মিনহাজ হোসেন ছাড়া আর কেউই কখনো আমিশাপাড়া বাজারে যাননি। তারা কেউই আসামিদের চিনেন না।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া দিদারের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার মিতু শিশু সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করে বলেন, তার স্বামীকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার দিন সব ব্যবসায়ীরা আব্দুর রহিমের ওপরে হামলার ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছেন। তার স্বামী ওই ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে আজ জেলহাজতে। তাদের সঙ্গে অবিচার হলে অপর মানুষের বিপদে আর কেউ কোনোদিন এগিয়ে যাবে না বলেও যুক্ত করেন তিনি।

এদিকে মামলার পর থেকে আসামি বেলাল হোসেন ওরফে সুদি নান্টুসহ সবাই পলাতক রয়েছেন।

সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চলছে। আসামিরা মোবাইল ব্যবহার না করায় উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

 


Share: