নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম (এলএসডি) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধান বিক্রিকারী কৃষকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর নিকট বুধবার (১ জুলাই) এ সংক্রান্ত লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।
আবেদনকারী উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের পশ্চিম বেলপুকুর চৌধুরীপাড়ার মৃত কাজী আবুল কাশেমের ছেলে কাজী মোশারফ হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে খাদ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের মাধ্যমে লটারির ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তার এওআই নম্বর ২০১৬৯২০৭১।
সে অনুযায়ী গত ৩ জুন তিনি তার বরাদ্দের ২ হাজার কেজি (২ মেট্রিক টন) ধান সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য গুদামে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। এসময় খাদ্য গুদামের নাইট গার্ড মাজেদুল ধানগুলো ফ্যান করতে হবে তাই ২০০ টাকা নেয়। এভাবে সব কৃষকের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানায় মাজেদুল।
এরপর ধান বিক্রির রশিদ নিতে গেলে নাইট গার্ড মাজেদুলের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা ঘুষ চায় খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা (ওসি, এলএসডি) অনিমেষ কুমার সরকার। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি রশিদে সই করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এর প্রেক্ষিতে সরাসরি ওসির হাতে ২ হাজার টাকা দিয়ে রশিদে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আমার পরিচিত আরও অনেক কৃষকের কাছ থেকে জানতে পারি যে তাদের কাছেও ২ হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়েছেন খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। তাই এমন অনিয়ম দুনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিকারের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মোশারফ হোসেন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা ও জেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও নীলফামারী-৪ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্যকেও অনুলিপি দিয়েছি। কৃষকদের সাথে এমন অনৈতিক কাজের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে কোন ধরনের অর্থ লেনদেন করার কোন সুযোগ নাই। এমন করে থাকলে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাই দায়ী হবেন। আমরা তদন্ত করে এর সত্যতা পেলে বিভাগীয়ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা অনিমেষ কুমার সরকার বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থেই ধানের আদ্রতা ঠিক করতে বৈদ্যুতিক ফ্যান দিয়ে শুকানো হয়েছে। এজন্য বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর কোন অর্থ কারো কাছ থেকেই নেওয়া হয়নি। কেউ অভিযোগ করলেও প্রমাণ করতে পারবেনা।