Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / নকশা ত্রুটির সীতাকুণ্ড আন্ডারপাস এখন ‘মরণফাঁদ’, ফাইল গায়েব - Chief TV

নকশা ত্রুটির সীতাকুণ্ড আন্ডারপাস এখন ‘মরণফাঁদ’, ফাইল গায়েব - Chief TV

2026-06-23  ডেস্ক রিপোর্ট  34 views
নকশা ত্রুটির সীতাকুণ্ড আন্ডারপাস এখন ‘মরণফাঁদ’, ফাইল গায়েব - Chief TV
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলায় নির্মিত ‘নামার বাজার’ আন্ডারপাসটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র এই মাধ্যমটি এখন চরম ঝুঁকি, দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ ও আতঙ্কের প্রতীকে রূপ নিয়েছে।
 
২০১০ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের ৯ নম্বর প্যাকেজের অধীনে এই আন্ডারপাসটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় জনগণের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে এটি তৈরি করা হলেও শুরু থেকেই এতে ছিল চরম পরিকল্পনাগত দুর্বলতা ও যথাযথ তদারকির ঘাটতি।
 
আন্ডারপাসটির ক্লিয়ারেন্স ও উচ্চতা এতটাই কম যে, ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবার গাড়ি কিংবা ভারী উদ্ধারযান এর ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারে না।
 
ফলে পৌরসভার নামার বাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ঘটলে জরুরি সেবা পৌঁছাতে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হয়, যা সময়ক্ষেপণের কারণে জীবন ও সম্পদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

নামার বাজার এলাকার বাসিন্দা নুরুল গনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই আন্ডারপাসটি তাদের জন্য কোনো উন্নয়ন নয়, বরং প্রতিদিনের আতঙ্ক। কোথাও আগুন লাগলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এলাকার মানুষ তাৎক্ষণিক জরুরি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
 
এটি এখন স্পষ্টতই একটি মৃত্যুফাঁদ। এদিকে অনুসন্ধানে নেমে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। প্রকল্প হস্তান্তরের পর আন্ডারপাসের মূল নকশা, অ্যাজ-বিল্ট ড্রয়িং এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও ব্যয়ের নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয়দের মনে গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি কেবলই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি আন্ডারপাস নির্মাণের বৃহৎ কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি আড়াল করতেই নথিপত্র গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।

এই জনদুর্ভোগ ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ প্রসঙ্গে সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, পৌরসভার কোনো ত্রুটির কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়নি; মূলত সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বাইপাস সড়কের নকশাতেই গুরুতর ত্রুটি ছিল।
 
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী নথিপত্র নিখোঁজের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, প্রকল্পটি সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের অধীনে বাস্তবায়িত হলেও এর নকশা ও ব্যয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বর্তমানে দপ্তরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
 
তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে কারিগরি পর্যায়ে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হালিম জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন সমস্যাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে এবং নামার বাজার আন্ডারপাস দিয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Share: