Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / কুড়িগ্রাম / রৌমারীতে মালামাল বিক্রি করে প্রকৌশলীর 'চুরির নাটক' - Chief TV

রৌমারীতে মালামাল বিক্রি করে প্রকৌশলীর 'চুরির নাটক' - Chief TV

2026-06-04  ডেস্ক রিপোর্ট  31 views
রৌমারীতে মালামাল বিক্রি করে প্রকৌশলীর 'চুরির নাটক' - Chief TV
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি মালামাল গোপনে বিক্রি করে ‘চুরির নাটক’ সাজানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি মালামাল চুরি হওয়া, চোর চিহ্নিত হওয়া এবং পরবর্তীতে সেই মালামাল জব্দ হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে মামলা করেননি এই কর্মকর্তা।
 
এদিকে আদালতের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই কেবল মুচলেকা নিয়ে উদ্ধার হওয়া চোরাই মালামাল থানা থেকে ফেরত আনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম নিজেই সরকারি মালামালগুলো বাইরে বিক্রি করে দিয়ে চুরির নাটক সাজিয়েছেন এবং এখন পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল রৌমারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি গুদাম থেকে ইউনিসেফের লোগো সম্বলিত ২০ লিটারের ১১০টি বালতি ও ঢাকনা, ১০ লিটারের ২৯০টি জেরিকেন, ৪টি সিলিং ফ্যান, চার শতাধিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও চার শতাধিক নেপকিনসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল গায়েব হয়ে যায়। চুরির দীর্ঘ ১৪ দিন পর, গত ১ মে রৌমারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।
 
সেই জিডির সূত্র ধরে পুলিশ রৌমারী বাজারের বেশ কয়েকজন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীর দোকান থেকে এসব বালতি ও জেরিকেন জব্দ করে। প্রকাশ্য বাজারে ইউনিসেফের লোগোযুক্ত সরকারি মালামাল ধরা পড়ার পর কেন তাৎক্ষণিক নিয়মিত মামলা না করে কেবল জিডি করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো মুচলেকার মাধ্যমে থানা থেকে মালামাল ফেরত আনা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

মামলা না করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপজেলা প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম দাবি করেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। তবে তার এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন উল্লেখ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনুর রশিদ জানান, তিনি নিজেই মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং আদেশ অমান্য করার বিষয়ে জবাবদিহি চাওয়া হবে। এদিকে বৃহস্পতিবার থানা থেকে ফেরত আনা মালামালের ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম।
 
অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পাশাপাশি তিনি এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। আদালতের অনুমতি ছাড়া চুরির মালামাল ফেরত দেওয়ার বিষয়ে রৌমারী থানার ওসি মো. কাওসার আলী জানান, জিম্মামূলক মুচলেকা নিয়ে মালামাল ফেরত দেওয়া যায়। তবে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন জানিয়েছেন, সরকারি মালামাল চুরির ঘটনায় কেন মামলা করা হলো না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সাথে অবহিত করা হবে।

Share: