কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ২ বছরের শিশু আয়েশা আক্তার আশুরা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেনের শিশু কন্যা আয়েশা খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ভিকটিমের পিতা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পরপরই কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশনায় তদন্ত শুরু হয়। উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে চিলমারী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল অভিযান চালিয়ে ৩০ এপ্রিল মোছাঃ কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)কে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তে উঠে আসে, আয়েশা পাশের বাসায় খেলতে গিয়ে একটি কলমের আঘাতে চোখে গুরুতর আঘাত পায়। এসময় সে চিৎকার শুরু করলে কহিনুর বেগম তার মুখ চেপে ধরে, এতে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে মারা যায়। ঘটনার পর লাশ গোপন করতে শিশুটিকে প্লাস্টিকের ড্রামে রেখে রাতে অন্ধকারে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।
আজ ১ মে আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে কহিনুর বেগম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।
কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ দ্রুততম সময়ে রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে সক্ষম হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।