পূর্ব সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে আটকে গুরুতর আহত হওয়া রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী) এখন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার পর বন্যপ্রাণীটি বর্তমানে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯-১০ বছর বয়সী এই বাঘিনী চলতি জুলাই মাসেই আবার তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হবে। তবে তার আগে গলায় স্যাটেলাইট-যুক্ত রেডিও কলার পরানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে তার গতিবিধি, শিকার সক্ষমতা ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বন কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকায় শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকে পড়ে বাঘিনীটি। পরে ট্রাংকুলাইজার ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে খুলনায় আনা হয়। ফাঁদের কারণে তার সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয় এবং সেখানে পচনও ধরেছিল।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, দীর্ঘ চিকিৎসায় এখন বাঘিনী সম্পূর্ণ সুস্থ, ওজন ও শারীরিক সক্ষমতা দুটোই ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, এখন সে স্বাভাবিকভাবে শিকার ধরতেও সক্ষম।
বন বিভাগ আরও জানায়, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বাঘিনীকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকাতেই আবার অবমুক্ত করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন থেকে রেডিও কলার পাওয়া গেলে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, বাঘিনী পুরোপুরি সুস্থ হওয়ায় তাকে দেরি না করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট কলার ব্যবহারের মাধ্যমে তার চলাচল পর্যবেক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার রোধে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, পাশাপাশি অবৈধ ফাঁদ অপসারণেও নেওয়া হচ্ছে বিশেষ উদ্যোগ।