দেশে সুদভিত্তিক অর্থনীতি পুরোপুরি বন্ধ করে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করার জোর দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, সুদ খাওয়া মহান আল্লাহ ও রাসুলের (সা.) সঙ্গে যুদ্ধ করার শামিল, তাই আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ করতে না চাইলে অবশ্যই সুদভিত্তিক অর্থনীতি বন্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সুদমুক্ত ব্যাংক পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর মাধ্যমে সুদভিত্তিক অর্থনীতির অবসান ঘটাতে আলেমদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন এবং আলেমদের নেতৃত্বেই একটি স্বাধীন ‘জাকাত মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা গেলে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব, যা দিয়ে ঘাটতি বাজেট সহজেই পূরণ করা যায়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশে সঠিকভাবে জাকাত আদায় করা গেলে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব, যা দিয়ে ঘাটতি বাজেট সহজেই পূরণ করা যায়।
তবে যারা জাকাত বোঝে না বা চুরি করে, তাদের হাতে এই অর্থ দেওয়া যাবে না। মদিনার অর্থনৈতিক মডেলের উদাহরণ টেনে তিনি ফসলের ওশর, অন্যান্য দ্রব্যের জাকাত ও কাফফারা ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী বিপুল পৃষ্ঠার বাজেট বক্তৃতা দিলেও সেখানে অপচয় রোধ বা জাকাতের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। এ সময় ঋণ নির্ভরতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঋণ রেখে মারা যাওয়া যাবে না এবং ঋণ করে দেশ চালানো হলে জাতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধের দাবি জানান এবং মদ ও বিড়ির দাম বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া মসজিদে নববীর আদলে দেশের মসজিদগুলো থেকেও রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিবেশ তৈরির কথা বলেন তিনি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধের দাবি জানান এবং মদ ও বিড়ির দাম বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এছাড়া মসজিদে নববীর আদলে দেশের মসজিদগুলো থেকেও রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার পরিবেশ তৈরির কথা বলেন তিনি।
কওমি মাদ্রাসার জন্য সরকারি বাজেট বরাদ্দ রাখা এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া জুতা-পোশাকের সুবিধায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্দোলন নিরসনে তিন কিস্তিতে সব যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, শ্রমিকদের যথাযথ পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা এবং জনগণকে কার্ড দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।