যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যকার সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিটি ১১ বছর আগে তার নিজের শাসনামলে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির চেয়ে ভালো বা উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি থাকবে—এমন আশা করা মোটেও বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
রোববার এবিসি নিউজের জনপ্রিয় আলোচনা অনুষ্ঠান ‘দিস উইক’-এ দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক বিষয়ে তার স্পষ্ট মতামত তুলে ধরেন।
সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে ওয়াশিংটনের সব শর্ত পূরণ না হলেও আলোচনার মাধ্যমে একটি সাধারণ সমঝোতায় পৌঁছানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
বারাক ওবামা ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো নতুন চুক্তি হলেও তা পূর্বের চুক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা বা ইতিবাচকভাবে উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
বারাক ওবামা ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো নতুন চুক্তি হলেও তা পূর্বের চুক্তির চেয়ে খুব একটা আলাদা বা ইতিবাচকভাবে উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সেই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার আগে দীর্ঘ সময় ধরে তা অত্যন্ত সফলভাবে কার্যকর ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের সূচনা হয়।
এরপর থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে অনবরত কথা বলে আসছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা চিরতরে বন্ধ হবে এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে দাবি করলেও তেহরান এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি দেয়নি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে দাবি করলেও তেহরান এখনো চূড়ান্ত কোনো সম্মতি দেয়নি।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই শান্তি আলোচনা চালানো এক প্রকার ‘অর্থহীন’।
মার্কিন ও ইরানের মধ্যকার চলমান এই মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন প্রসঙ্গে ওবামা মন্তব্য করেন, এই জটিল পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে কেবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা সামরিক বোমা হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান খোঁজা যায় না।
এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ। সাবেক এই বিশ্বনেতা আফসোসের সুরে বলেন, ‘এতদিনে মার্কিন প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাটি অন্তত নেওয়া উচিত ছিল।