সামরিক অভিযানের পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্টারলিংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছে, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণকে তারা বিনামূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করবে। স্যাটেলাইটভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে দেশটির নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। অতীতে ভেনেজুয়েলায় ইন্টারনেট ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতির সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবার ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। মাদুরোর সমর্থকরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এবং এই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।
কারাকাসের মেয়র কারমেন মেলান্দেজ, যিনি মাদুরো সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, বিক্ষোভে অংশ নিয়ে দাবি করেন—যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ‘অপহরণ’ করে নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, তাদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির প্রশাসনিক দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রই পালন করবে। মাদুরোকে আটক করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
এই সব ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।