Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যার’ পরিকল্পনাকারী বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার - Chief TV

শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যার’ পরিকল্পনাকারী বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার - Chief TV

2026-06-14  ডেস্ক রিপোর্ট  26 views
শাপলা চত্বরের ‘গণহত্যার’ পরিকল্পনাকারী বেনজীর দুবাইয়ে গ্রেপ্তার - Chief TV
২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে গণহত্যার পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ।
 
রোববারে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১২ জুন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় পলাতক এই সাবেক আইজিপিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
 
ইউএই সরকারের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং এনসিবি আবুধাবি এক ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানান, শাপলা চত্বরের ওই সমাবেশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার গণহত্যা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বেনজীর আহমেদের সঙ্গে আরও প্রধান ভূমিকায় ছিলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তৎকালীন প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং বিজিবির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।
 
এছাড়া এই অভিযানে পুলিশের সাবেক আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহীদুল ইসলাম, ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদসহ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কমান্ডিং অফিসার যুক্ত ছিলেন।
 
ওই সময়ে শাপলা চত্বরের সমাবেশ দমন করার ‘পুরস্কার’ হিসেবে পরবর্তীতে বেনজীর আহমেদকে পুলিশের আইজি, আজিজ আহমেদকে সেনাপ্রধান এবং জিয়াউল আহসানকে লে. জেনারেল পদে উন্নীত করাসহ অনেককেই বিশেষ পদক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে বর্তমানে দেশের আদালতে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
 
তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়ার বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ঢাকার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল।
 
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ বা এক্সট্রাডিশন আবেদন পাঠাতে হবে, যার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।

দুদক, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
 
অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে যে কেউ নয়—তা প্রমাণ করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Share: