বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং তা অবরুদ্ধ করার হুমকি দেওয়া মূলত ইরানের জন্য একটি বিশাল রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার।
অস্ট্রিয়া সরকারের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে ভলফগ্যাং পুশতাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, পারমাণবিক কর্মসূচির মতোই এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তেহরান তাদের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।
ভলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির এই নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছে এক ধরনের অদৃশ্য পারমাণবিক বোমার মতো শক্তিশালী অস্ত্র।
ভলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, হরমুজ প্রণালির এই নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছে এক ধরনের অদৃশ্য পারমাণবিক বোমার মতো শক্তিশালী অস্ত্র।
এই প্রভাব খাটিয়ে তেহরান সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো এবং পরোক্ষভাবে ইসরাইলের ওপর সব সময় একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ বজায় রাখতে সক্ষম হয়। ফলে কৌশলগত কারণেই ইরান কোনো অবস্থাতেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর থেকে নিজেদের কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করতে রাজি নয়।
চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যদি সাময়িকভাবে ঘোষণা দেয় যে তারা কোনো শুল্ক বা ফি ছাড়াই সবার জন্য এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, তাহলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে তারা ভবিষ্যতেও এই অবস্থানে অনড় থাকবে।
চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান যদি সাময়িকভাবে ঘোষণা দেয় যে তারা কোনো শুল্ক বা ফি ছাড়াই সবার জন্য এই প্রণালি উন্মুক্ত করে দিচ্ছে, তাহলেও ধরে নেওয়া যাবে না যে তারা ভবিষ্যতেও এই অবস্থানে অনড় থাকবে।
মূলত এই অঞ্চলে চলমান দ্বন্দ্বে জড়িত প্রধান তিনটি পক্ষ—আমেরিকা, ইরান এবং ইসরাইলের নীতি ও অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। আজ তারা যে সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, আগামীকালই যে সে অনুযায়ী কাজ করবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের এই স্নায়ুযুদ্ধ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলেই আভাস মিলছে।