Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / আন্তর্জাতিক / গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি - Chief TV

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি - Chief TV

2026-01-18  ডেস্ক রিপোর্ট  116 views
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক-হুমকি - Chief TV

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাবে আপত্তি জানালে কঠোর বাণিজ্যিক শাস্তির হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ইস্যুতে বিরোধিতা করায় যুক্তরাষ্ট্রের আটটি মিত্র দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক বা ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই অবস্থানের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউরোপের শীর্ষ নেতারা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। জুন মাস থেকে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “এই দেশগুলো খুবই বিপজ্জনক খেলায় লিপ্ত। বিষয়টি শুধু রাজনীতির নয়—এতে আমাদের গ্রহের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্ন জড়িত।”

ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইউরোপীয় নেতারা কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তার কথা বলে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানো সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত। বিষয়টি নিয়ে আমরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করব।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেন, “এই প্রেক্ষাপটে শুল্কের হুমকি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ভয় দেখিয়ে ইউরোপকে চাপের মুখে ফেলা যাবে না।”

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন জানান, “আমরা কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল মেনে নেব না। যৌথ অবস্থান নির্ধারণে সুইডেন ইতোমধ্যে অন্যান্য ইইউ দেশ, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।”

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্টা বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন অটল থাকবে।”

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, ট্রাম্পের এই হুমকি তাদের জন্য বিস্ময়কর।

এদিকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী রক্ষণশীল দল ইপিপির প্রধান ম্যানফ্রেড ওয়েবার বলেন, এই হুমকির কারণে ইইউ–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি স্থগিত রাখা হবে।

অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ দাবি করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সক্ষমতা নিশ্চিত করার মতো সামর্থ্য ডেনমার্কের নেই। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে গ্রিনল্যান্ড আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ হতে পারে।

তবে এই অবস্থান উত্তেজনা কমানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ন্যাটো মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন চাপে পড়েছে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে। শুল্ক ঘোষণার আগেই ডেনমার্কের বিভিন্ন শহর ও গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক-এ ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল—“গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়” এবং “গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীর”—এমন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেনও নুক-এর বিক্ষোভে অংশ নেন। একই সময় কোপেনহেগেনে সফররত মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের নেতা সিনেটর ক্রিস কুনস ট্রাম্পের বক্তব্যকে “অগঠনমূলক” বলে মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় ছোট হলেও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এবং উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা ও সামরিক নজরদারির ক্ষেত্রেও অঞ্চলটির গুরুত্ব অনেক।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—সহজ বা কঠিন পথ যেটাই হোক, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়।

এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো ডেনমার্কের পাশে অবস্থান নিয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সীমিত পরিসরে নজরদারি মিশনে সেনা পাঠিয়েছে।


Share: