বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম নামে বঙ্গভবনের এক সহকারী প্রোগ্রামারকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডিএমপি ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই সহকারী প্রোগ্রামারকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দেখা যায়। পরে ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাইবার হামলার মাধ্যমে তাদের নেতার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল এবং তার নামে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। দলটির দাবি, ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স আইডি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই আইডি থেকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। পরে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং পরদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হয়। সেখানে হ্যাকিংয়ের সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়েও উপস্থাপনা দেওয়া হয়।
জামায়াতের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে তাদের কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক ঠিকানায় ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় মঙ্গলবার দলটির একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানায়। সেখানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।