২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১৭ বছর পর এবারই অর্থাৎ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অংশ নেওয়ার কথা ছিলবিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। ফেনী-১, বগুড়া-৭ এবং দিনাজপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী তার পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্রও জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা আর হলো না তার। মঙ্গলবার ভোরে চলে গেলেন জীবনের অনিবার্য গন্তব্যে।
স্বামী শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যখন অস্তিত্বের সংকটে, ওই সময় দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। নিতান্ত সাধারণ এক গৃহবধূ রাজনীতির মঞ্চে এসে খুব অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন দলীয় ঐক্যের প্রতীক। বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে জনাতার রায়ে ফের দলকে ক্ষমতায় নিয়ে যান। তিনিই ছিলেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল তিনটি সংসদ নির্বাচনে একাধিক আসন থেকে ভোটের লড়াই করেন তিনি। । ফেনী, বগুড়া, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, খুলনা—যেখানেই নির্বাচন করেছেন, সেখানেই তিনি বিজয়ী হয়েছেন। দেশের নির্বাচনের ইতিহাসে খালেদা জিয়াই একমাত্র উদাহরণ, যিনি ৫টি সংসদ নির্বাচনে ২৩টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতে জয়ী হয়েছেন। , শুধু জয়লাভ করাই নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ভোটের ব্যবধানও ছিল অনেক বেশি।
১৯৯১ সালে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়লাভ করেছিলেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৭ আসনে ৮৩ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছিলেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর ভোট সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৭৬০। একইভাবে ঢাকা-৫ আসনে ৭১ হাজার ২৬৬, ঢাকা-৯ আসনে ৫৫ হাজার ৯৪৬, ফেনী-১ আসনে ৩৬ হাজার ৩৭৫ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬৯ হাজার ৪২২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তিনি।
১৯৯৬ সালেও পাঁচ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতে জয়ের দেখা পান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৭ হাজার ৪১৭, ফেনী-১ আসনে ৬৫ হাজার ৮৬, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ৫৯ হাজার ৫৪ ও চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬৬ হাজার ৩৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
একইভাবে ২০০১ সালেও সমান পাঁচ আসনে জয়ী হন খালেদা জিয়া। ওই নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসনে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৫, বগুড়া-৭ আসনে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২২, খুলনা-২ আসনে ৯১ হাজার ৮১৯, ফেনী-৩ আসনে ১ লাখ ৩ হাজার ১৪৯ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসনে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫২৬ ভোট পেয়ে জয় পান তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিন আসনে প্রার্থী হন খালেদা জিয়া। এই নির্বাচনেও যথারীতি সব আসনে বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসনে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯৩, বগুড়া-৭ আসনে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭৫৮ ও ফেনী-১ আসনে ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি।
আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় আর কোনো ভোটে প্রার্থী হন নি।