নওগাঁর ১১টি উপজেলাসহ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা গত শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন অসংখ্য ভক্ত। অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে কল্যাণময়ী দেবীর চরণে প্রণাম জানান তারা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। “সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমলোচনে, বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহি নমোস্ততে”—এই মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে বিদ্যা অর্চনা করেন ভক্তরা।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা শুক্রবার, বাংলা ৯ মাঘ ও ইংরেজি ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, পঞ্চমী তিথিতে বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
নওগাঁ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলাসহ সারাদেশে মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যায় আরতি ও আলোকসজ্জা।
প্রতিবছরের মতো এবারও মহাদেবপুর উপজেলার ৯ নম্বর চেরাগপুর ইউনিয়নের চৌমাশিয়া সরকারপাড়া গ্রামে শ্রীশ্রী সর্বজনীন মন্দিরে, বাগধানা চারমাথা মোড়ে, ১০ নম্বর ভীমপুর ইউনিয়নের চকগৌরী হাট, বেলঘুড়িয়া, খোদ্দনারায়ণপুর, পালপাড়া, লক্ষ্মীপুর, গণেশপুর ও সরস্বতীপুরে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়।
প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। দেবীর কৃপালাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অনেক বাড়িতে সাড়ম্বরে পূজার আয়োজন করা হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, সরস্বতী বিদ্যা, জ্ঞান ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী। দেবী শ্বেতশুভ্রবসনা। এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা—এ জন্য তাঁকে বীণাপাণিও বলা হয়। শুভ্র রাজহংস দেবীর বাহন।
পুরোহিত নয়ন কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাত ২টা ৭ মিনিটে শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি শুরু হয় এবং শুক্রবার রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে তা শেষ হয়।
উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজা অনুষ্ঠিত হয় ভাবিচা গ্রামে। এ বছর সেখানে নয়টি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভাবিচা সবুজ সংঘ ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি টিটু সরকার বলেন, প্রতিবছরই তাদের গ্রামে সবচেয়ে বেশি পূজা হয়। এবারও ব্যক্তিগত ও সর্বজনীন মিলিয়ে নয়টি পূজা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবাই একসঙ্গে পুষ্পাঞ্জলি দেন এবং দর্শনার্থী ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা ও সহকারী শিক্ষক শ্যামল সরকার জানান, দেবীর চরণে অঞ্জলি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মণ্ডপে শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা করা হয় ‘হাতেখড়ি’র মাধ্যমে।
শিক্ষার্থী স্বপ্নীল দাস বলেন, পঞ্চমী তিথিতে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করতে বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে প্রণতি জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেছি।