Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / লাইফস্টাইল / পায়খানা চেপে রাখলে শরীরে যা ঘটে - Chief TV

পায়খানা চেপে রাখলে শরীরে যা ঘটে - Chief TV

2026-07-04  ডেস্ক রিপোর্ট  37 views
পায়খানা চেপে রাখলে শরীরে যা ঘটে - Chief TV
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কর্মস্থলে থাকা, ভ্রমণ করা কিংবা আশেপাশে উপযুক্ত শৌচাগার না পাওয়ার কারণে অনেক সময়ই মলত্যাগের তাগিদ চেপে রাখতে হয়। সাময়িকভাবে বা মাঝে মাঝে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক এবং এতে বড় কোনো সমস্যা না হলেও, বিষয়টিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকর।
 
শরীরের স্বাভাবিক অন্ত্রের সংকেত বা মলত্যাগের তাগিদকে বারবার উপেক্ষা করলে তা হজম প্রক্রিয়ার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, যখনই মলত্যাগের বেগ হয়, শরীর মূলত বর্জ্য পদার্থ বের করে দেওয়ার সংকেত পাঠায়।
 
এই সংকেত উপেক্ষা করলে মল দীর্ঘক্ষণ কোলনে বা বৃহদন্ত্রে জমা থাকে, যার ফলে কোলন মল থেকে অতিরিক্ত পানি শোষণ করে নেয়। ফলশ্রুতিতে মল অত্যন্ত শক্ত, শুষ্ক এবং বের করা বেশ কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে।

২০২২ সালের একটি স্বাস্থ্যভিত্তিক গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে, মল দীর্ঘক্ষণ চেপে রাখলে মলদ্বার বা রেক্টাম অস্বাভাবিকভাবে প্রসারিত হয়। এর ফলে মল শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক মলত্যাগের স্বাভাবিক তাগিদ বা সংকেত পাঠানোই বন্ধ করে দেয়।
 
এই অবহেলার কারণে পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, মলদ্বারের পেশীর স্থায়ী ক্ষতি এবং অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা বা ব্লকেজের মতো গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত কোঁত বা চাপ দেওয়ার কারণে অর্শ বা পাইলস (হেমোরয়েডস), পেট ফাঁপা ও পেটে তীব্র অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
 
বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই তাগিদ উপেক্ষা করার প্রবণতা বেশি থাকলে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বারবার এই প্রাকৃতিক সংকেত অবহেলা করলে শরীরের সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা পরবর্তীতে কখন মলত্যাগ করা জরুরি তা বোঝার ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়।

একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক অন্ত্রের অভ্যাস বজায় রাখতে চিকিৎসকেরা কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে দৈনিক পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা, খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, শস্যদানা ও ডাল জাতীয় আঁশযুক্ত বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখা এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় বা ব্যায়াম করা।
 
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যখনই শরীর থেকে মলত্যাগের তাগিদ আসবে, কোনো অবস্থাতেই তা বিলম্ব না করে দ্রুত শৌচাগার ব্যবহার করা।
 
তবে যদি ইতিমধ্যেই কারও ঘন ঘন কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় তীব্র ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া কিংবা মলত্যাগের স্বাভাবিক নিয়মে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

 

Share: