আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং একই দিনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারা চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
ইসি সূত্র জানায়, প্রতীক বরাদ্দের পর আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ইসির পরিপত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বিধান তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, বৈধভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিজে অথবা লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত নোটিশ দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি একটি নির্বাচনী এলাকায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, সে ক্ষেত্রে দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কিংবা সমমর্যাদার কোনো পদধারীর স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। ওই ক্ষেত্রে দলের অন্যান্য মনোনীত প্রার্থীরা আর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নোটিশ দেওয়া হলে বা রাজনৈতিক দল কর্তৃক চূড়ান্ত মনোনয়ন জানানো হলে তা আর কোনো অবস্থাতেই প্রত্যাহার বা বাতিল করা যাবে না। রিটার্নিং অফিসার স্বাক্ষর যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে সংশ্লিষ্ট নোটিশের একটি অনুলিপি তার কার্যালয়ের দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরদিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা হবে। এ সময় আইন ও বিধি অনুযায়ী ফরম-৫-এ প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণানুক্রমে সাজিয়ে প্রকাশ করতে হবে এবং একই দিনে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তির কার্যক্রম রোববার শেষ হয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, এ বিষয়ে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪২৫টি আপিল মঞ্জুর করা হয়, ২০৯টি নামঞ্জুর হয় এবং ১১টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি শেষে এসব আপিল নিষ্পত্তি করা হয়।
আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রতিটি আপিল গভীরভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন এবং ভোটগ্রহণের দিনও সেই সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় জমা পড়া মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি বৈধ এবং ৭২৩টি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।