শীতকালে অনেক কিছুই আরামদায়ক মনে হলেও, পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন এই সময়ে আরও প্রকট হয়ে উঠতে পারে। সাধারণ ধারণার বিপরীতে, ডিহাইড্রেশন শুধু গরম আবহাওয়াতেই হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে সমস্যাটি অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে, তবে লক্ষণগুলো দেখা না দেওয়া পর্যন্ত এটি প্রায় অদৃশ্য থাকে।
শীতকালে পানিশূন্যতার কারণ
ঠান্ডা বাতাস শুষ্ক থাকে এবং ঘরের তাপমাত্রা আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। শ্বাস নেওয়ার সময় শরীর কিছুটা আর্দ্রতা হারায়। এছাড়া ঘন ঘন প্রস্রাব, যা ঠান্ডাজনিত ডিউরেসিস নামে পরিচিত, তরল ক্ষয়ের একটি প্রধান কারণ। শীতকালে পোশাকের অতিরিক্ত ব্যবহার, শারীরিক পরিশ্রম কমানো এবং কম পানি খাওয়াও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ায়।
ডিহাইড্রেশনের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হালকাভাবে দেখা দেয়। যেমন: শুষ্ক ঠোঁট, নিস্তেজ ত্বক, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, কম প্রস্রাব এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব। অনেকেই এগুলোকে শীতকালীন ক্লান্তির সঙ্গে ভুল করে নেন।
ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধে করণীয়
১. সকালে উষ্ণ পানি পান করুন
দিনের শুরুতে এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করলে পরিপাকতন্ত্র জাগ্রত হয় এবং সারাদিনে নিয়মিত পানি গ্রহণের অভ্যাস তৈরি হয়। একসাথে অনেক পানি না খেয়ে, দিনে ছোট ছোট পরিমাণে পানি পান করুন। হাতের কাছে একটি বোতল রাখুন যা আপনাকে পানি খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দেবে।
২. তরল খাবার গ্রহণ
শীতকালে ঠান্ডা পানি কম আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে শুধু পানি নয়, উষ্ণ তরল গ্রহণও জরুরি। ভেষজ চা, পরিষ্কার স্যুপ, উষ্ণ লেবুর পানি বা ঝোল শুধু হাইড্রেশন বাড়ায় না, গলা ও পাচনতন্ত্রকেও প্রশমিত করে।
৩. ফল এবং সবজি দিয়ে হাইড্রেশন
পানি গ্রহণের একমাত্র উৎস নয়, ফল ও শাক-সবজিও গুরুত্বপূর্ণ। মৌসুমি ফল, রান্না করা শাক-সবজি, স্যুপ, ডাল এবং স্টু প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং পানি সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক পানি ও আর্দ্রতাযুক্ত খাবার ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখে, যা শীতকালে শক্তি ও পেশীর কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ক্যাফেইনের প্রভাব
চা ও কফি অতিরিক্ত পরিমাণে শরীর থেকে তরল ক্ষয় করতে পারে। শীতকালে এটি আরও বাড়ে। তাই এগুলো পরিমিতভাবে গ্রহণ করা উচিত এবং প্রতিটি কাপ ক্যাফেইনের জন্য পানি বা উষ্ণ হাইড্রেটিং পানীয় খাওয়া জরুরি।
শীতকালে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধের সহজ উপায়
নিয়মিত বিরতিতে পানি পান করুন।
উষ্ণ তরল পানীয় গ্রহণ করুন।
পানি সমৃদ্ধ ফল, শাক-সবজি ও স্যুপ খাবেন।
তৃষ্ণার্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করা সহজ, তবে নিয়মিত সচেতনতা ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অপরিহার্য।