নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া। তিনি ২০১০ সালের চ্যানেল আই লাক্স সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছিলেন। তবে এবার ইউএনওর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তিনি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিবেদকের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান তিনি।

তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া ৩৭ তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হন। ২০১৯ সালের ২০ মার্চ প্রকাশিত সরকারি প্রজ্ঞাপনে তাকে ক্যাডার হিসেবে নিয়োগে সুপারিশ করা হয়৷ গতবছরের ১১ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। এরআগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ( সিনিয়র সহকারী সচিব) হিসেবে সমন্বয় ও সংসদ বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।
ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যা সংকট খোঁজখবর নিচ্ছেন। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় প্রশাসনিক সেবা সহজ করা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি এবং নাগরিক সেবাকে জনবান্ধব করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
উপজেলার বাল্যবিবাহ বন্ধ, বালু পাচাররোধ ও মাদক নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর হস্তক্ষেপ সর্বস্তরে সাড়া ফেলেছে। এছাড়া অসহায় দুস্থ ও হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিয়ে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহায়তায় নারীদের প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সহায়তা করছেন তিনি। বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা ভুক্তভোগীরা সরাসরি তার কক্ষে তার সঙ্গে কথা বলছেন। পরক্ষণেই তিনি বিষয়টি নিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করছেন৷

স্থানীয়রা বলছেন, ইউএনও সোহানিয়া যোগদানের পরে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন করেছেন। তিনি যোগদানের পরে বাল্যবিবাহে জিরো টলারেন্স ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ সকল ধরনের অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুপালী বেগম বলেন, আমি বিধবা মানুষ, খুব অভাবে জীবন যাপন করতাম। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করার পরেও বিধবা ভাতা পাইনি। এবার নতুন ইউএনও স্যার যোগদান করার কিছুদিন পর তার কাছে গিয়েছিলাম তিনি সহায়তা করে আমার ভাতার ব্যবস্থা করেছেন।
রনচন্ডী ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা জিয়ারুল ইসলাম বলেন, নতুন ইউএনও আসার পর আমাদের এলাকায় কোনো বাল্য বিবাহ হয় না। একটি বাল্য বিবাহ হওয়ার খবর আমরা তাকে জানিয়েছিলাম তিনি রাত তিনটার দিকে এসে বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছেন।
উপজেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর আব্দুর রশিদ শাহ্ বলেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচককে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও যথেষ্ট ভালো ভূমিকা রেখেছেন। এখানে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইউএনও এর দক্ষতায় এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, কোথায় কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। বিগত নির্বাচন গুলোর তুলনায় উনি ভাল নির্বাচন উপহার দিয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য কাজে তার আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমরা একজন সৎ ব্যক্তিকে ইউএনও হিসেবে পেয়েছি। তিনি যোগদান করার পর থেকে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম বন্ধ করেছে। আমরা দেখেছি তিনি বিভিন্ন সময়ে বাজার মনিটরিংসহ নানা ধরনের অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আঞ্জুমা সোহানিয়া বলেন, আমি সবসময়ই মানুষের পাশে থাকতে চাই। আমি শিক্ষা জীবন থেকে অসহায় ছিন্নমূল মানুষকে সবসময় সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। আমি ইউএনও হিসেবে যোগদান করার পরে উপজেলার নানামুখী সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা সমস্যা নিয়ে আসা মানুষের কথা শুনেছি চেষ্টা করেছি সবাইকে সহায়তা করার।
তাছাড়া এ উপজেলায় বালুপাচার, বাল্যবিবাহসহ নানা মুখী সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। আমি যোগদান করার পরে বাল্য বিবাহ রোধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। বর্তমান শিশু শিক্ষার্থীরা আগামীর বাংলাদেশ তারা দেশকে ভালোবাসে দেশের জন্য কাজ করবে। তবে তাদের জীবন নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ আমি সমর্থন করিনা।
তাছাড়াও কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড় সমস্যা অনলাইন জুয়া আমি থানা পুলিশের সহায়তা নিয়ে সেটিতে বন্ধ করতে কাজ করছি। আমরা উপজেলা প্রশাসন মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর রয়েছি। তাদের বিভিন্ন সময় ভ্রমাম্যান আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানা করেছি। আমি সবসময় চাই সমাজে যারা অন্যায় অনিয়ম কিংবা সমাজের ক্ষতি হয় এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে তারা সংশোধন হোক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসুক। উপজেলাকে বাল্যবিবাহসহ সব ধরনের অনিয়ম বন্ধ করে মডেল উপজেলা গড়তে চাই। আমি আশা করি আমার এ যাত্রায় সকলে সহায়তা করবে।