আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা সমাধানে তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের আগে এবং আইসিসির সতর্কতা সত্ত্বেও পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রের বরাতে জানা যায়, লাহোরে আইসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি যে তিনটি দাবি তোলে, সেগুলো হলো—
বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও বাংলাদেশের জন্য অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিতকরণ
ভবিষ্যতের কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব প্রদান
বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি:
পিসিবি দাবি করেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবদান বৃদ্ধির কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ এবং জাতীয় দলের মান উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া উচিত।
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও অংশগ্রহণ ফি:
পিসিবি বলেছে, দলটি যদিও টুর্নামেন্টে খেলতে পারছে না, তবুও অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা হোক। কারণ প্রস্তুতিতে বিপুল বিনিয়োগ হয় এবং মৌলিক আর্থিক নিরাপত্তা থাকা জরুরি।
ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব:
পিসিবি বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ চায়। বোর্ডের যুক্তি, দেশটির পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও দর্শক সমর্থন রয়েছে, যা বড় আন্তর্জাতিক আসর সফলভাবে আয়োজনের উপযুক্ত।
পিসিবির ভেতরে কেউ কেউ ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে আগ্রহী হলেও চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি অনমনীয় অবস্থান বজায় রেখেছেন। সোমবার তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
পেছনের পটভূমি হিসেবে বলা যায়, নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ভারতের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। যদিও আইসিসি জানিয়েছিল, দলটির জন্য কোনো যাচাইযোগ্য হুমকি নেই। পাকিস্তান পরে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়। আইসিসির বৈঠকের পাশাপাশি মহসিন নাকভি ও পিসিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও আলোচনায় বসেন।
এদিকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন উইকেটে জয় অর্জন করেছে।