Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খেলাধুলা / পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে কেন ডাকলো আইসিসি - Chief TV

পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে কেন ডাকলো আইসিসি - Chief TV

2026-02-08  ডেস্ক রিপোর্ট  31 views
পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে কেন ডাকলো আইসিসি - Chief TV

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে এবার বাংলাদেশের ভূমিকাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠেয় বহুল আলোচিত এই ম্যাচটি বাতিলের শঙ্কায় পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে লাহোরে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। এই বৈঠককে ঘিরেই এখন বিশ্ব ক্রিকেটে উত্তেজনা তুঙ্গে।

এই সংকটের সূত্রপাত বাংলাদেশের ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত থেকে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর প্রত্যাখ্যান করলে আইসিসি হঠাৎ করেই বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায্য বলে দাবি করে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় পাকিস্তান।

এরপর পাকিস্তান স্পষ্ট অবস্থান নেয়—বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এখান থেকেই পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। কারণ ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিপুল অঙ্কের সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পনসর আয়। এই ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসির বাণিজ্যিক ক্ষতির পরিমাণ হবে বিপুল।

পাকিস্তানের ওপর সরাসরি চাপ প্রয়োগ করলে তারা পুরো টুর্নামেন্ট বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে—এমন আশঙ্কায় আইসিসি কৌশল পরিবর্তন করে। সংঘাতের পথে না গিয়ে মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়া হয় বিসিবি সভাপতিকে। আইসিসির ধারণা, আগে বাংলাদেশের অসন্তোষ প্রশমিত করা গেলে পাকিস্তানকেও ম্যাচ বর্জনের অবস্থান থেকে সরানো সম্ভব হবে।

যদিও আইসিসি এরই মধ্যে পিসিবিকে পয়েন্ট কর্তন কিংবা সদস্যপদ স্থগিতের মতো শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তবু পাকিস্তান তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ফলে বিসিবি ও পিসিবিকে একই কাতারে রেখে সমাধানের পথ খুঁজছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

লাহোরের বৈঠকে বিসিবি ও পিসিবির পক্ষ থেকে যৌথ দাবি তোলা হতে পারে—এমন আলোচনা চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, আইসিসি এমন একটি সমঝোতামূলক প্রস্তাব দিতে পারে, যা আংশিকভাবে হলেও দুই দেশকে সন্তুষ্ট করবে। বাংলাদেশের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ কিংবা ভবিষ্যৎ সূচি নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি এলে পাকিস্তানের ম্যাচ বর্জনের যুক্তিও দুর্বল হয়ে পড়বে।

এই প্রেক্ষাপটে লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বৈঠক নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। এটি ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ এক কূটনৈতিক অধ্যায়। পাকিস্তানকে শান্ত করার চাবিকাঠি এখন অনেকটাই বিসিবি সভাপতির হাতে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট হবে—আইসিসি বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় কতটা নমনীয় হয়, নাকি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থানেই অটল থাকে।


Share: