টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। তবে এই ম্যাচটি বাতিল হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। একই সঙ্গে সম্প্রচার স্বত্বধারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও উল্লেখযোগ্য লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে আইসিসি। এ ইস্যুতে রোববার পাকিস্তানের লাহোরে বৈঠকে বসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
বৈঠক চলাকালীন সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী হয়ে জানিয়েছিলেন খুব শিগগিরই এই সংকটের সমাধান হবে এবং পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মত হবে। তখন পিসিবির একটি সূত্র আইএএনএসকে জানায়, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত।
পরে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলে। রাত পর্যন্ত আলোচনা চললেও বৈঠক শেষে আইসিসি, পিসিবি বা বিসিবির কেউই গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ঘোষণাও প্রকাশ করা হয়নি।
বৈঠক–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাতের খাবারের বিরতির পর দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। পিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এ বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বৈঠকে পিসিবি আইসিসির অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারতের অতিরিক্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। পাকিস্তানের অভিযোগ, বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) আইসিসির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করছে, যা পিসিবির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
একই সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের বিষয়টিও উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের জন্য আইসিসির পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ক্ষতিপূরণমূলক প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে পূর্ণ অংশ পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় শুরুতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ বলা হলেও এখন পরিস্থিতি বলছে বৈঠকের পরও কাটেনি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনিশ্চয়তা।