কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে তাঁর পদ থেকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে লাগাতার অসদাচরণ ও অনিয়মসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ১০ জুন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক সরকারি আদেশে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রেখে জনসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করেছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন খাদিজা বেগম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তাঁর চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন খাদিজা বেগম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তাঁর চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।
ইউপি সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বৈরাচারী মনোভাব ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এরই মধ্যে গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ও তার কিছু স্ক্রিনশট ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
একজন নারী জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তদন্তে খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য খাদিজা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তদন্তে খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য খাদিজা বেগমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কেবল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে শতভাগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
তারই প্রেক্ষিতে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনসেবা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থে জেলা প্রশাসন এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।