বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক এখনো থামেনি। কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াই শুরু হলেও ওই ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে মিসরের অভিযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ম্যাচের পর মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ও স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো অভিযোগ করেন, ম্যাচ পরিচালনায় আর্জেন্টিনা বাড়তি সুবিধা পেয়েছে। এমনকি ম্যাচটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলেও দাবি করেন তারা। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়ারলুইজি কলিনা জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং ম্যাচে রেফারি কোনো ভুল করেননি।
ইনসাইড ফিফা ডট কমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কলিনা আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের বিতর্কিত দুই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মিসরের প্রথম অভিযোগ ছিল, ৫৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল বাতিল হওয়া নিয়ে। ভিএআর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে মিসরের এক খেলোয়াড় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে মিসরের মোহামেদ সালাহ ফাউলের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে মিসর। তবে কলিনা জানান, ঘটনাটি স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
কলিনা বলেন, গোল হওয়ার পর ভিএআর পুরো আক্রমণাত্মক ধাপ যাচাই করে। গোলের আগে কোনো স্পষ্ট ফাউল থাকলে এবং সেটির প্রভাব থাকলে ভিএআর মাঠের রেফারিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ফাউলের ক্ষেত্রে গোল থেকে দূরত্ব বা ঘটনার সময়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে প্রতিটি পরিস্থিতি নিয়ম অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়।
ফিফার এই কর্মকর্তা রেফারিং নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ম্যাচ পরিচালনাকারীদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোরও রেফারিং সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব নেই।
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে মিসর-আর্জেন্টিনা ম্যাচের সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা এখনো ফুটবল বিশ্বে চলছে।