ভারতের আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি এর চূড়ান্ত তদন্ত কার্যক্রম।দুর্ঘটনার প্রথম বার্ষিকীতে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত এক বছরে তদন্ত প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে কর্তৃপক্ষের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে এই অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সংস্থাটি এই আপডেট জানাল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়নের পরপরই এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে পাশের একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের আবাসিক ভবনে আছড়ে পড়ে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
সেই বুক কাঁপানো দুর্ঘটনায় আরোহী ও মাটিতে থাকা মানুষসহ মোট ২৫০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল।
তদন্ত ব্যুরোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, গত ১২ মাসে তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার কারিগরি, পরিচালনাগত, সাংগঠনিক এবং মানবিক নানা দিক অত্যন্ত গভীরভাবে খতিয়ে দেখেছেন।
ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণ, ইঞ্জিনের উপাদান পরীক্ষা এবং বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ নথি পর্যালোচনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সংগৃহীত এসব জটিল প্রমাণ ও পরীক্ষার ফলাফলগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে, যা শেষ হতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও পর্যালোচনা প্রয়োজন।
ব্যুরো স্পষ্ট করেছে যে, এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়, বরং ভবিষ্যতের বিমান চলাচলকে নিরাপদ করা। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন নিহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান যুক্তরাজ্যের লেস্টারের বাসিন্দা বিশ্ওয়াশকুমার রমেশ।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা থাকলেও কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সত্য উদ্ঘাটনে নিখুঁত তদন্তকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।