জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ফারহান ফাইয়াজ ও মাহমুদুল রহমান সৈকতসহ ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি আবেগঘন সাক্ষ্য দেন এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
জবানবন্দিতে শহিদুল ইসলাম বলেন, তার একমাত্র ছেলে ফারহান ফাইয়াজ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে কলেজে যাওয়ার পর বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নেয়। আন্দোলনকারীরা নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের একপর্যায়ে তার ছেলের বুকে গুলি লাগে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ও পরে লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে আইসিইউতে ফারহানকে দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে উল্লেখ ছিল, ফারহান ঘটনাস্থলেই মারা গিয়েছিল।
শহিদুল ইসলাম আরও জানান, ফারহানের মরদেহ নিয়ে জানাজা ও দাফনের পথেও নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল পরিবারকে। হাসপাতাল থেকে মরদেহ বের করা, কলেজ মাঠে জানাজা এবং গ্রামের বাড়িতে দাফনের সময়ও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাইব্যুনালে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদ প্রতিবেদন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি কয়েকজন সাবেক রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন। তাদের মধ্যে সাবেক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের একমাত্র সন্তানকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা হোক এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হোক। মামলার বিচার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।