চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামে ফজরের নামাজে ডাকতে গিয়ে ঘরের ভেতর রক্তাক্ত অবস্থায় এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে পরিবার। নিহত ফাতেমা বেগমের (৭৫) শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোমবার ভোর ৪টার মধ্যে কোনো এক সময়ে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা ঘরের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় চুরিতে বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফাতেমা বেগমের থুতনি, নাক ও গলায় আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের আগে বড় ছেলের স্ত্রী শাশুড়িকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে অন্য সদস্যদের খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফাতেমা বেগমের মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহত ফাতেমা বেগম একই গ্রামের মৃত সাদেক মিয়াজীর স্ত্রী। তার স্বামী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ফাতেমা বেগম ঘটনার সময় বাড়িতে একাই অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।