Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / গাজায় জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে মিসর ও রেড ক্রসের অংশগ্রহণ- Chief TV

গাজায় জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে মিসর ও রেড ক্রসের অংশগ্রহণ- Chief TV

2025-10-26  ডেস্ক রিপোর্ট  153 views
গাজায় জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারে মিসর ও রেড ক্রসের অংশগ্রহণ- Chief TV

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে নিহত ইসরায়েলি জিম্মিদের মরদেহ উদ্ধারের কাজে মিসর ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস (আইসিআরসি) অংশগ্রহণ করবে—ইসরায়েলের অনুমতি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সরাসরি হওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তির ধারায় গাজায় নিহত সকল জিম্মির মরদেহ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল; এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সোমবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিসরীয় ও রেড ক্রসের দলকে গাজার “ইয়েলো লাইন” বা ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাইরেও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারে সহায়তার জন্য হামাসকেও রেড ক্রসের সঙ্গে যৌথভাবে ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

অস্ত্রবিরতির প্রথম ধাপে হামাস এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত ইসরায়েলি জিম্মির মধ্যে ১৫ জনের মরদেহ হস্তান্তর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী সব মরদেহ ফেরত দিতে হবে হামাসকে; বর্তমানে মরদেহ হস্তান্তর ও উদ্ধারের কাজ তারা মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালনা করছে।

ইসরায়েলি এক মুখপাত্র জানায়, ইয়েলো লাইনের বাইরে বিস্তৃত এলাকায় মিসরীয় দল ও রেড ক্রস যৌথভাবে খননযন্ত্র ও ট্রাক ব্যবহার করে মরদেহ উদ্ধারকাজ চালাবে। জাতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত এই ইয়েলো লাইন গাজার উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব সীমান্ত বরাবর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি অস্ত্রবিরতির প্রথম ধাপে প্রযোজ্য।

রেড ক্রস পূর্বেও জিম্মিদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করলেও মিসরীয় উদ্ধারদলকে গাজার অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে—এটি এক নতুন দৃষ্টান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। হামাস সাধারণত সরাসরি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে জিম্মিদের হস্তান্তর না করে রেড ক্রসের মাধ্যমে হস্তান্তর করে থাকে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েলের বোমা হামলায় গাজার প্রায় ৮৪ শতাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। হামাস জানিয়েছে—ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে মরদেহ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, তবু তারা উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।

সে সাথে, রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, “গাজায় কোন বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে তা নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা ইসরায়েলের হাতে” এবং যোগ করেন, “আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করি। কোন আন্তর্জাতিক বাহিনী গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়, তা ইসরায়েলই ঠিক করবে।”

আরও আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, বহু দেশ গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীর অংশ হতে আগ্রহ দেখিয়েছে, কিন্তু ইসরায়েলের সম্মতি ছাড়া কাউকেই অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না—যা বিশেষ করে তুরস্কের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে মনে করে ইঙ্গিতপূর্ণ বলা হয়েছে। তবে হামাসের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই ওই ধরনের বাহিনী মোতায়েন কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে—গাজার ধ্বংসস্তূপে চাপা মরদেহ উদ্ধারে সন্ধান ও উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নিয়ে মিসর ও আইসিআরএসি যৌথভাবে কাজ শুরু করবে এবং বিষয়টি যথাসম্ভব সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হবে।


Share: