Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / জাতীয় / মিরপুরে শিশু হত্যা মামলা: ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

মিরপুরে শিশু হত্যা মামলা: ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

2026-06-02  ডেস্ক রিপোর্ট  25 views
মিরপুরে শিশু হত্যা মামলা: ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চার্জশিটভুক্ত মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ইতিমধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ দুপুর দেড়টা থেকে পুনরায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রথম দফায় যারা সাক্ষ্য দিলেন
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন ভিকটিমের বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। এরপর পর্যায়ক্রমে আদালতে সাক্ষ্য দেন:

ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার ও বড় বোন।

ভিকটিমের ফুপু মাহমুদা আক্তার, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন এবং চাচা মিজানুর রহমান লিটন।

বাড়ির চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন ও দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা।

প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু এবং কনস্টেবল রোমা আক্তার।

রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ সাক্ষীদের জেরা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, বাকি সাক্ষীরাও আদালতে উপস্থিত আছেন। সময় পাওয়া গেলে আজই সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে।

কড়া নিরাপত্তায় আসামিরা আদালতে
এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। প্রথমে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হলেও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে এজলাসে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার (১ জুন) আদালত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই দিনে বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়েছিল। এর আগে গত ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন।

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ড
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর আসামিদের ঘরের দরজার সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই বালতির ভেতর শিশুটির কাটা মাথা এবং ঘরের মেঝেতে মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা।

পরে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ কল দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি সোহেল রানাকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা।

Share: