Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / আন্তর্জাতিক / সীমান্তে লাউডস্পিকারে বাজছে ভূতের কান্না কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে থাইল্যান্ড- Chif TV

সীমান্তে লাউডস্পিকারে বাজছে ভূতের কান্না কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে থাইল্যান্ড- Chif TV

2025-10-20  ডেস্ক রিপোর্ট  167 views
সীমান্তে লাউডস্পিকারে বাজছে ভূতের কান্না কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালাচ্ছে থাইল্যান্ড- Chif TV

থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির চুক্তি অমান্য করে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্তে শুরু করেছে এক অদ্ভুত ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’। অভিযোগ উঠেছে— থাই সেনারা সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর লাউডস্পিকারে বাজাচ্ছে ‘ভূতের কান্না’ আর্তনাদের মতো ভয়ানক শব্দ, যার সঙ্গে মাঝে মাঝে শোনা যায় বিমান ইঞ্জিনের গর্জনের মতো আওয়াজ।

কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে, থাই সেনাদের এই ‘ভৌতিক শব্দ’ সম্প্রচার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে। এতে সীমান্ত এলাকার মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে, মানসিক অস্থিরতা ও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিচ্ছে।

সিনেট প্রেসিডেন্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে বলেন, তিনি বিষয়টি মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদিকে অবহিত করেছেন। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ‘শব্দসন্ত্রাস’-এর অভিযোগ জাতিসংঘেও তোলা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে টানা চার রাত ধরে সেরেং ও প্রে চ্যান এলাকায় এই শব্দ বাজানো হচ্ছে।

এক বৈঠকে হুন সেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানালেও সতর্ক করে বলেন, “সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।”

ভৌতিক সিনেমা ও শব্দ প্রচারের আয়োজক
থাই নাগরিক কাননাওয়াত পংপাইবুলওয়েচ, যিনি ‘কান চমপালাং’ নামে পরিচিত, এই ভৌতিক শব্দ ও সিনেমা প্রদর্শনের মূল আয়োজক। তিনি থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়েই বান নং চান ও বান নং ইয়াকা সীমান্তবর্তী গ্রামে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ভূতের সিনেমা ও ভয়ানক শব্দ প্রচার চালান।
এর উদ্দেশ্য ছিল— থাই ভূখণ্ডে বসতি গড়ে তোলা কম্বোডিয়ানদের সরে যেতে বাধ্য করা।

প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অবস্থান
কম্বোডিয়ার তথ্যমন্ত্রী নেথ ফিয়াকত্রা বলেন,

“এটি একটি গুরুতর শব্দদূষণ এবং মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কেন এমন নিষ্ঠুরতা?”

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চর্ণভিরাকুল বলেছেন,

“আমরা শুধু আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই এটা করেছি। শব্দ ব্যবহার করে কম্বোডিয়ানদের রোধ করা আন্তর্জাতিক মহলে থাইল্যান্ডের সুনাম ক্ষুণ্ন করবে বলে আমি মনে করি না।”

থাই সামরিক বাহিনীও একই অবস্থান জানিয়ে বলেছে, তাদের সব কার্যক্রম থাই ভূখণ্ডের ভেতরেই হয়েছে।
বুরাপা টাস্ক ফোর্সের কমান্ডার বেনজাপল ডেচাতিওয়ং বলেন,

“তারা যা খুশি অভিযোগ করুক, আমরা থাই মাটিতেই কাজ করেছি। আমার সেনারা সারা রাত পাহারা দেয়, তাদের জেগে রাখার জন্যই এই ব্যবস্থা।”

প্রেক্ষাপট
গত জুলাইয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পাঁচ দিন ধরে সংঘর্ষে ডজনখানেক মানুষ নিহত হন এবং ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
যদিও জুলাই ২৮ তারিখে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছায়, তবু পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়ে গেছে— আর সেই উত্তেজনারই নতুন অধ্যায় যেন এই ‘ভূতের কান্না’ যুদ্ধ।

 


Share:

ট্যাগস: chief tv chief tv news