নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি বরাদ্দে একজনের ব্যক্তিগত বাঁশঝাড় রক্ষায় গার্ড ওয়াল নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ কমিশনের বিনিময়ে এডিবির অর্থায়নে এই কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সব নিয়ম উপেক্ষা করে রাস্তার পাশে ৩০ ফুট চওড়া বাঁশঝাড়ের পরে এই গার্ড ওয়ালের কাজ করা হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলী বুড়ির বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে প্রায় ৩ শতক জমিতে হাজী সবুর আলী সরকার নামে এক ব্যক্তির বাঁশঝাড় রয়েছে। পাশের পুকুরের কারণে বাঁশঝাড়ের কিছু অংশ ধ্বসে পড়েছে। এখনো সেখানে প্রায় ৩০ ফুট চওড়া ও প্রায় ১০০ ফুট লম্বা জায়গা জুড়ে বাঁশ আছে।
এই বাকি বাঁশঝাড় রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন গার্ড ওয়াল নির্মাণের জন্য। এতে ১ লাখ ৬৬ হাজার বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তা থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে পুকুরের পাড়ে এই গার্ড ওয়াল নির্মাণ কাজ চলছে। এতে এলাকাবাসী নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
তাদের অভিমত এলাকায় অনেক জায়গায় রাস্তার পাশেই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা সেখানে গার্ড ওয়াল না দিয়ে একজনের বাঁশঝাড় রক্ষায় এভাবে সরকারি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কোন যুক্তিতে?
তাদের অভিযোগ এখানে নিশ্চয়ই অর্থের বিনিময়ে প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। নয়তো এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ ওইস্থানে রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার ন্যুনতম আশঙ্কা নাই। তারপরও প্রকৌশল বিভাগ কিভাবে এই কাজটা করছে?
রোববার (১৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গেলে বাঁশঝাড়ের মালিক হাজী সবুর আলী সরকার বলেন, বাঁশঝাড় নয় রাস্তা রক্ষায় এই কাজ করা হচ্ছে। এতে জামায়াতের এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পুকুরের কারণে ইতোমধ্যে বাঁশঝাড়ের কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে। বাকি এই ৩০-৪০ ফুটও ভেঙ্গে গেলে রাস্তাটা ঝুঁকিতে পড়বে। তাই এই গার্ড ওয়াল নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছি। আমি নিজের খরচে পুকুর থেকে মাটি কেটে ভরাট করে দিবো।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলহাজ্ব মাজহারুল ইসলাম বলেন, মসজিদের পাশে পুকুর পাড় রক্ষার জন্য আমরা ওই প্রকল্প দিয়েছিলাম। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তা উল্লেখিত স্থানে না করায় কাজ আটকে দিয়ে বাতিল করে দেওয়া হয়। পরে কিভাবে যে ওই কাজ হচ্ছে তা আমাদের জানা নাই। যে জায়গায় গার্ড ওয়াল করা হচ্ছে তা ঠিক হয়নি। তবে যেহেতু হয়ই গেছে তা আর আটকিয়ে লাভ নাই।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শান্তা স্নেহা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী মানিক বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা যেখানে কাজ করতে বলেছেন সেখানেই কাজ করা হচ্ছে। এটা ব্যক্তিগত জমি কি না তা আমার দেখার বিষয় নয়। তবে রাস্তা রক্ষায় পাশের পুকুর ডোবা বা নিচু জমিতে গার্ড ওয়াল করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছি কখনো রাস্তা থেকে এতটা দূরে করিনি। এখানে কিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা অফিসই ভালো বলতে পারবে।
প্রকল্পটির সাইড অফিসার (এসও) শওকত কবির বলেন, গার্ড ওয়াল রাস্তা থেকে ৪০ ফুট দূরে হলেও প্রয়োজন আছে বলেই করা হয়েছে। কারণ বাঁশঝাড়টি বালু মাটিতে হওয়ায় পুকুরে ধ্বসে গিয়ে রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেই বিবেচনাতেই এতো দূরত্বেও কাজ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা বলেন, প্রকল্পের স্থান দেখিনি। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূলত: সবুর আলী সরকার লোকটা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় কাজটার বরাদ্দ এডিপি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে কাজ শুরুর সময় সমস্যা হওয়ায় জামায়াত নেতারা ওই প্রকল্প থেকে তাদের সুপারিশ নাকচ করেন। পরে অন্যদলের ও ইউপি চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
কিন্তু একটা সূত্রের অভিযোগ, এম এম আলী রেজা সৈয়দপুরের আসার পর থেকেই এভাবে অনিয়ম করে চলেছেন। শতকরা ২-৫ ভাগ কমিশনের বিনিময়ে তিনি প্রকল্প যাচাই বাছাই না করেই অনুমোদন দিয়ে আসছেন। এক্ষেত্রে একজন এসও ও অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মচারী তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন। তাদের মাধ্যমে কমিশন আদায় করা ও ভূয়া প্রকল্প অনুমোদনের জন্য বাড়তি অর্থ আদায় করে থাকেন। সূত্রের দাবি এবিষয়ে তদন্ত করা হলেই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।