Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
হোম / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / তুরাগে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৪, প্রাইভেটকার জব্দ - Chief TV

তুরাগে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৪, প্রাইভেটকার জব্দ - Chief TV

2026-06-06  ডেস্ক রিপোর্ট  28 views
তুরাগে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৪, প্রাইভেটকার জব্দ - Chief TV
ঢাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি এক চালকের ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। একই সঙ্গে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত একটি ভয়ংকর ‘হানিট্র্যাপ’ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং নিহতের ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) পিবিআই সদরদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— এস এম সালমান (২৯), আদিব ইসলাম (১৯), জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা (২১) এবং সবুজ মিয়া (৩৫)। পিবিআই ঢাকা, গাজীপুর ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।


নিখোঁজের পর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার মামলার বাদী ফারজানা আক্তার জানান, তাঁর স্বামী মো. লোকমান সরদার (৩৮) ইনড্রাইভ ও পাঠাও অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। গত ৩০ মে বিকেলে রাজধানীর কুড়িল এলাকার বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরবর্তীতে তুরাগ নদীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, লোকমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন ছিল; তাঁর বাম হাত-পা ভাঙা এবং কাঁধ থেকে আঙুল পর্যন্ত চামড়া ছোলা ছিল। এই ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

 
যেভাবে পাতা হয়েছিল ‘হানিট্র্যাপ’ পিবিআই-এর তদন্তে উঠে আসে, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। চক্রের নারী সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ওরফে আনিবা জারা কৌশলে চালক লোকমান সরদারকে টঙ্গীর পাখির বাজার এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এস এম সালমান, আদিব ইসলাম ও সবুজ মিয়াসহ চক্রের অন্য সদস্যরা লোকমানকে জিম্মি করে ফেলে। প্রথমে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মারধর করা হয় এবং ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পরবর্তীতে নির্যাতনের একপর্যায়ে লোকমান মারা গেলে তাঁর হাত-পা বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২৮-১৬৬৮) ছিনতাই করে নিয়ে যায় চক্রটি।


পিবিআই-এর উদ্ধার ও আইনি অগ্রগতি অভিযানকালে পিবিআই ভুক্তভোগীর ছিনতাইকৃত প্রাইভেটকার ছাড়াও দুটি মোবাইল ফোন এবং মুক্তিপণের বিকাশ লেনদেনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য-প্রমাণ জব্দ করেছে। পিবিআই জানিয়েছে:

গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি এস এম সালমান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

চক্রটি মূলত ভুয়া স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিত।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং রাইড শেয়ারিং চালকদের টার্গেট করে নারী সদস্যের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এদের মূল পেশা।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং ডিআইজি মো. হুমায়ূন কবিরের নির্দেশনায় মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর এসআই মো. জাকারিয়া আলম। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Share: