চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের কারামাই শহরে অনুষ্ঠিত ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড চায়না-আসিয়ান স্পিড রোলার স্কেটিং সিটি ইনভাইটেশনাল টুর্নামেন্ট’-এ বাংলাদেশের স্কেটাররা উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় তারা মোট চারটি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে দুটি স্বর্ণপদক এসেছে বগুড়ার স্কেটার নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবীর ঝুলিতে।
ওয়ার্ল্ড এশিয়া স্কেটিং ও চায়না রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নাবীয়্যূনের পারফরম্যান্স ছিল অনন্য। ১১ ও ১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইভেন্টে জুনিয়র-এ গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি প্রথম দিনে ৫০০ মিটার স্পিড রেসে এবং দ্বিতীয় দিনে ১০০০ মিটার স্প্রিন্ট রেসে স্বর্ণপদক জয় করেন।
বাংলাদেশ রোলার স্কেটিংয়ের ৩০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাঙালি স্কেটার এশিয়ার ১৭টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে একসঙ্গে দুটি স্বর্ণপদক অর্জন করলেন। এই অর্জনকে দেশের রোলার স্কেটিং ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবীর এই জয় শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি এশিয়ার রোলার স্কেটিং ইতিহাসেও এক অসাধারণ অধ্যায়।”
নাবীয়্যূনের পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের অন্য সদস্য আতাহার শিহাব অদিতও দুটি পদক জিতেছেন বলে জানা গেছে।
প্রায় আট বছর ধরে স্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত নাবীয়্যূন বগুড়া রোলার স্কেটিং ক্লাবের হয়ে অনুশীলন করেন। তিনি ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা ও কোচ আশরাফুল ইসলাম রহিতের বড় ছেলে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওঠার আগে নাবীয়্যূন জাতীয় পর্যায়ে দুটি রৌপ্যপদক এবং রোপ স্কিপিংয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন।
ছেলের সাফল্যে গর্বিত কোচ ও বাবা আশরাফুল ইসলাম রহিত বলেন, “এশিয়ার ১৭টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে দুটি স্বর্ণপদক জয় করা শুধু আমাদের পরিবারের নয়, দেশেরও গর্বের বিষয়। আশা করি, নাবীয়্যূন আরও এগিয়ে যাবে।”
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর ১০ সদস্যের বাংলাদেশ দল চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দলের সদস্যরা হলেন—আকিফ হামিদ, মুনজির আফনান বিশ্বাস, আতাহার শিহাব অদিত, জারিফ আহমেদ সরকার, ফ্যালিশা রুজবেহ, আফরাজ বিন আরিফ এবং নাবীয়্যূন ইসলাম পৃথিবী। প্রতিযোগিতা শেষে আগামী ১৫ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে দলের।