সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে শিশুরা হেঁটে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষা নামলেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। চারপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ সময় শিশুদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে নৌকা।
তবে অনেক ক্ষেত্রে পারাপারের জন্য নৌকা সংগ্রহ, মেরামত কিংবা মাঝি নিয়োগে এক মাস বা তারও বেশি সময় লেগে যাওয়ায় বর্ষার শুরুতেই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, যা ব্যাহত করছে পাঠদান এবং কমিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
চলতি বছরও মধ্যনগর উপজেলার বলরামপুর, ফারুকনগর, বীরসিংহপাড়া ও শালীয়ানীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয় চত্বর ও আশপাশের এলাকা এক মাসেরও বেশি সময় আগে পানিতে তলিয়ে গেলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষার্থীদের পারাপারের উপযোগী নৌকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না এবং পারাপারের সুব্যবস্থা না থাকায় শিশুরা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না।
বীরসিংহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, শিক্ষার্থী পারাপারের জন্য সরকারি কোনো নৌকা পাওয়া যায়নি, তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্যোগেই বিকল্প ব্যবস্থা করতে হয়।
অন্যদিকে বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রঞ্জন সরকার জানান, জেলা পরিষদ থেকে পূর্বে একটি নৌকা পেলেও মাঝির বেতন সরকার দেয় না, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে বহন করতে হয়।
ফারুকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. আতিক ফারুকী বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই সরকারিভাবে নৌকা, মাঝি এবং নিরাপদ পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪০টিতেই বর্ষাকালে নৌকায় যাতায়াত করতে হয়, তবে সরকারিভাবে নৌকা বা মাঝি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা নেই। ইতিমধ্যেই এমন ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।