Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / রাজনীতি / গুম-খুনের শিকার পরিবারের কথা শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান - Chief TV

গুম-খুনের শিকার পরিবারের কথা শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান - Chief TV

2026-01-17  ডেস্ক রিপোর্ট  123 views
গুম-খুনের শিকার পরিবারের কথা শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান - Chief TV

বিগত সরকারের শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতবিনিময় অনুষ্ঠান আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বজনহারাদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত।

‘বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের কষ্টের কথা শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তারেক রহমান নিজেও।

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ এলাকা থেকে গুম হওয়া পারভেজের মেয়ে ঋদি তার বাবাকে ফিরে না পাওয়ার বেদনা তুলে ধরে বলেন, “বছরের পর বছর চলে যায়, নতুন বছর আসে—কিন্তু বাবা আর ফেরেন না। পাঁচ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেল, তবু আমরা বাবাকে পাইনি।” বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে বলেও কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান সে।

একই অনুষ্ঠানে কথা বলেন সাফা নামের আরেক শিশু। মাত্র দুই মাস বয়সে বাবাকে হারানো সাফা জানায়, বাবাকে কখনো ‘বাবা’ বলে ডাকতে পারেনি সে, এমনকি বাবার সঙ্গে কোনো স্মৃতিও নেই। দীর্ঘ এক যুগ ধরে পরিবার বাবার অপেক্ষায় থাকলেও আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি বলে জানায় সে।

আরেক শিশু মিম জানায়, তিন বছর বয়সে বাবাকে হারানোর পর থেকে সে বাবার শূন্যতা অনুভব করে বড় হচ্ছে। সমবয়সীদের বাবারা যখন সন্তানদের হাঁটতে শেখান, তখন সে নিজের বাবাকেই খুঁজে ফেরে।

গত প্রায় ১৭ বছরে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়ে অসংখ্য পরিবার স্বজন হারিয়েছে। কেউ হারিয়েছে বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই কিংবা স্বামী। এসব পরিবারের একমাত্র দাবি—ন্যায়বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, গুম–খুনের ভয়াবহ সময় পেছনে ফেলে দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, “অনেক সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে—হঠাৎ করে হয়তো একদিন বাবা দরজায় কড়া নাড়বে। অনেক মা এখনও আশায় আছেন, সন্তান একদিন ফিরে আসবে।”

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য দাবি জানান, ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের মতো অপরাধ করার সাহস না পায়—সে জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের।


Share: