Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / ভারত থেকে মোংলা বন্দরে পৌঁছাল চালের সর্বশেষ চালান: ৫০ হাজার টনের চুক্তি সম্পন্ন - Chief TV

ভারত থেকে মোংলা বন্দরে পৌঁছাল চালের সর্বশেষ চালান: ৫০ হাজার টনের চুক্তি সম্পন্ন - Chief TV

2026-06-27  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  39 views
ভারত থেকে মোংলা বন্দরে পৌঁছাল চালের সর্বশেষ চালান: ৫০ হাজার টনের চুক্তি সম্পন্ন - Chief TV
ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের চুক্তির অংশ হিসেবে সর্বশেষ ৫ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন চাল মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে।

‎দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানিকৃত চালের চুক্তির তৃতীয় ও সর্বশেষ প্যাকেজের চালানটি মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে ভিয়েতনামের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি পুথান-৩৬ মোট ৫ হাজার ৭৩৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল নিয়ে মোংলা বন্দরের জেটিতে নোঙর করে।
 
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারতের সাথে সম্পাদিত ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির যে চুক্তি হয়েছিল, এই চালানের মাধ্যমে তার সফল সমাপ্তি ঘটল।
 
গত ২০ জানুয়ারি প্রথম চালান পৌঁছানোর পর থেকে পর্যায়ক্রমে ১০টি জাহাজের মাধ্যমে এই চুক্তির সকল চাল মোংলা বন্দরে খালাস করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্য গুদামগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে।

‎বন্দর এলাকার সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক আবদুস সোবাহান জানিয়েছেন, আমদানিকৃত এই চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতে শনিবার সকাল থেকেই ভৌত পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। নমুনা সংগ্রহের পর রবিবার বিকেল থেকে জাহাজ থেকে চাল খালাস কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
 
সরকারি এই চাল আমদানির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বাজারে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুদ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংকট নিরসন করা। চুক্তির শর্তানুযায়ী মোট আমদানিকৃত চালের ৪০ শতাংশ মোংলা বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করার পরিকল্পনা ছিল, যার ধারাবাহিকতায় মোংলা বন্দরের অংশটি এখন সম্পূর্ণ হতে যাচ্ছে।
 
আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খালাসকৃত চাল দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‎পরিবহন ও খালাস প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক মাসে প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্যান্য কারিগরি জটিলতা থাকা সত্ত্বেও মোংলা বন্দরের সক্ষমতার কারণে চাল খালাস কার্যক্রমে কোনো বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়নি।
 
বন্দর কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা এড়াতে প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে, চালের গুণগত মান যাচাইয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকায় নমুনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে খালাস প্রক্রিয়া পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে।
 
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমভি পুথান-৩৬ জাহাজ থেকে চাল খালাসের সাথে সাথে তা নদীপথে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য গুদামগুলোতে প্রেরণের জন্য লজিস্টিক সাপোর্ট নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন না ঘটে।

‎এই চালানের মাধ্যমে ভারতের সাথে সম্পাদিত ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ফলে দেশের খাদ্য মজুদের ভারসাম্য আরও মজবুত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
 
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষিতে দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে খাদ্যমূল্য ধরে রাখার যে চ্যালেঞ্জ সরকারের সামনে রয়েছে, এই আমদানিকৃত চাল তা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 
মোংলা বন্দরের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ চালের সফল হ্যান্ডলিং দেশের ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণে বন্দরের সক্ষমতাকেও পুনরায় প্রমাণ করল। এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাল গুদামজাতকরণ এবং দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বিতরণ করাই প্রশাসনের জন্য পরবর্তী মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Share: