পূর্বঘোষিত ১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সরে যাওয়ার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বরং এটিকে জোটের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন তিনি।
শনিবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
তিনি বলেন, শুরু থেকেই যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টনের আলোচনা চলছিল, ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় সেই একই সমঝোতার ভিত্তিতে বাকি ৪৭টি আসন ভাগ করা হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, যেসব আসনে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে মনোনীত প্রার্থী ব্যতীত অন্য দলের প্রার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। ১৯ জানুয়ারির আগে পরিস্থিতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বলেও জানান তিনি। ইসলামী আন্দোলনের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর ১০ দল ধরে নিচ্ছে, তারা ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১০ দলীয় জোটের ইসলামপন্থী দলগুলো সঠিক পথে আছে কি না—এমন প্রশ্ন তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে মামুনুল হক বলেন, তার দল সঠিক পথেই রয়েছে। সবার অনুভূতি এক রকম হয় না, তবে অন্যের মতামত ও অনুভূতির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল।
ইসলামী আন্দোলন শেষ পর্যন্ত জোটে না থাকার পেছনে ষড়যন্ত্র আছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এমন কোনো ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। বরং সবাইকে একসঙ্গে রাখতে না পারাটাই নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন তারা।
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না—ইসলামী আন্দোলনের এমন অভিযোগের ব্যাখ্যায় মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মূল অর্থ ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। দেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হয়। একদিনেই বা এক দফায় শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়—এই বাস্তবতাই তিনি তুলে ধরেছেন। এতে কোনো অসঙ্গতি নেই।
ইসলামী আন্দোলনের জোটত্যাগ আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না—এ প্রশ্নের উত্তরে মামুনুল হক বলেন, ঐক্যের আহ্বান থেকে দলগুলো এখনো সরে আসেনি। সে কারণে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।