Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / জাতীয় / শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা করে হৈ-চৈ - Chief TV

শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা করে হৈ-চৈ - Chief TV

2026-06-14  ডেস্ক রিপোর্ট  27 views
শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরোধিতা করে হৈ-চৈ - Chief TV
ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে পুলিশে হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় সংসদ। রোববারের সংসদ অধিবেশনে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ ও শিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে ৩০০ বিধিতে দুটি পৃথক বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
 
সাধারণত ৩০০ বিধিতে একটির বেশি বিবৃতি দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া এবং জিসানের বিষয়টি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংসদে তোলায় তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
 
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মাঝে প্রচণ্ড হৈ-চৈ ও হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে রুলিং দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি পুরো বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবেশ শান্ত করেন।

ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথমে বেনজীর আহমদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিবৃতি শেষ করে আরেকটি বিশেষ বিবৃতির জন্য স্পিকারের অনুমতি চান।
 
কোনো রাজনৈতিক দলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি বিষয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর দাবি করা হয়েছে, যার প্রকৃত সত্য জাতির সামনে আনা প্রয়োজন।
 
এরপর তিনি জিসান প্রধানের গ্রেপ্তারের বিবরণ দিয়ে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্কের জেরে জিসান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
 
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পরবর্তীতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জিসান তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার ওষুধ খাওয়ান। এই ঘটনায় জিসানের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে সরকারের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেই প্রকৃত সত্য সংসদে প্রকাশ করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানালেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বিতীয় বিবৃতিটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দেন তিনি।
 
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের প্রশ্ন তোলেন, একটি রাজনৈতিক দলকে হেয় করার জন্যই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিকল্পিতভাবে এই বিতর্কিত বিষয়টি সংসদে এনেছেন।
 
তিনি অভিযোগ করেন, কুমিল্লার পুলিশ জিসান কিংবা সংশ্লিষ্ট ভিকটিম নারীর সঙ্গে সাংবাদিক বা অন্য কাউকেই কথা বলতে দিচ্ছে না, যা একটি নতুন প্লট তৈরির ইঙ্গিত দেয়। এই বক্তব্যকে সংসদীয় ইতিহাসের একটি নজিরবিহীন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ বা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

এ সময় স্পিকার ৩০০ বিধির ওপর সরাসরি প্রশ্ন তোলার নিয়ম নেই বলে স্মরণ করিয়ে দিলেও সংসদ সদস্যদের হট্টগোল থামেনি। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে স্পিকার কায়সার কামাল জানান, এটি দেশের সর্বোচ্চ পবিত্র জায়গা এবং এখানে সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
 
সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে কিছু ঘটে থাকলে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি আস্বস্ত করেন। এই রুলিংয়ের পর সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে ফিরে বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে দিনের পরবর্তী কার্যসূচি শুরু হয়।

Share: