Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / লালমনিরহাট / গজলডোবার সব গেট খোলা: তিস্তাপাড়ের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা - Chief TV

গজলডোবার সব গেট খোলা: তিস্তাপাড়ের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা - Chief TV

2026-06-23  ডেস্ক রিপোর্ট  24 views
গজলডোবার সব গেট খোলা: তিস্তাপাড়ের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা - Chief TV
টানা ভারি বর্ষণ এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়ায় উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
 
আকস্মিক এই ঢলের পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ অংশের তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (সুইস গেট) সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রেখে পানি নিয়ন্ত্রণের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সূত্রমতে, আগামী দুই-তিন দিন এই অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢল অব্যাহত থাকার জোরালো পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও ভয়াবহ অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উজানের এই আকস্মিক ও অনিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহে তিস্তা তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের বাসিন্দা মোন্তাজ মিয়া জানান, যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে যেকোনো সময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
 
ভারত সরকারের এমন একতরফা পানি ব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে স্থানীয় সাবেক স্কুলশিক্ষক মহিরুদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যখন বাংলাদেশের চাষাবাদের জন্য পানির চরম হাহাকার থাকে, তখন তারা সব গেট বন্ধ করে দেয়।
 
আর বর্ষা মৌসুমে যখন আমাদের পানির কোনো প্রয়োজন নেই, তখন গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি গেট একযোগে খুলে দিয়ে আমাদের নিম্নাঞ্চল ভাসিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, ভারত থেকে ধেয়ে আসা উজানের ঢলের কারণে মঙ্গলবার ভোর থেকেই তিস্তা নদীর পানি অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে।
 
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং পাউবোর টিম সার্বক্ষণিক মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী সর্বশেষ অবস্থা জানিয়ে বলেন, মঙ্গলবার বেলা ৩টার হিসাব অনুযায়ী তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
 
এই মুহূর্তে ব্যারাজ রক্ষা ও লোকালয় প্লাবিত হওয়া ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এবং গ্রোইনসহ সংযোগ রাস্তাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

Share: