Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / লালমনিরহাট / শিশু নন্দিনী হত্যা পুলিশের দুই মামলায় গ্রেপ্তার ১০, গ্রামে গ্রেপ্তার আতংক - Chief TV

শিশু নন্দিনী হত্যা পুলিশের দুই মামলায় গ্রেপ্তার ১০, গ্রামে গ্রেপ্তার আতংক - Chief TV

2026-06-19  ইসমাইল হোসেন নিজাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি  23 views
শিশু নন্দিনী হত্যা পুলিশের দুই মামলায় গ্রেপ্তার ১০,  গ্রামে গ্রেপ্তার আতংক - Chief TV
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার শিশু নন্দিনী রানী (৭) হত্যার ঘটনায় আসামীকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি গাড়ি ভাংচুর ও আাসমীর বাড়ি ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করে।
 
শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে দুই মামলায় পুলিশ ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফলিমারীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে এখন গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে। পুরুষ ব্যক্তিরা বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

শুক্রবার বিকেলে ১০জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারী থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব। গ্রেপ্তারকৃতদের দুইটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

ওসি জানান, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নিজ বাড়ির পাশে ভুট্টাখেতে মাটি খুড়ে ৭বছরের শিশু নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক সন্দেহভাজন অভিযুক্ত ওই এলাকার রণজিৎ কুমারের ছেলে বিধান চন্দ্রকে আটক করা হয়।
 
সেই অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশ ও জেলা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ১৮জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ৬টি সরকারি গাড়ি ভাংচুর করে হামলাকারীরা। হামলাকারীরা অভিযুক্ত আসামীর বাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তিনটি ঘর ও আসবাবপত্র আগুনে জ্বালিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় বুধবার আদিতমারী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে অজ্ঞাত ১২০০-১৫০০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে একই থানায় বৃহস্পতিবার আরও একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলা পরিষদের স্টাফ আব্দুর রাজ্জাক।
 
সেই মামলায়ও অজ্ঞাত ১২০০-১৫০০ জনকে বিবাদি করা হয়েছে। এই দুই মামলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পযর্ন্ত ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ১০জনকে গ্রেপ্তার করে।

নন্দিনী হত্যা ও তার পরবর্তি হামলার ঘটনায় জেলা পুলিশ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নন্দিনীর বাবা নলিনী মোহন বর্মণ বাদি হয়ে মঙ্গলবার আদিতমারী থানায় বিধান চন্দ্র ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
 
এ মামলায় বিধান ও তার বাবা রনজিৎ কুমারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছি পুলিশ। সামাজিক বিবাদের ক্ষোভের জেরে নন্দিনীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বিধান চন্দ্র।

ফলিমারী গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শিশু নন্দিনী রানীর মরদেহ উদ্ধারের পর পরই আশপাশের গ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ এলাকায় ঢুকে উগ্র আচরণ শুরু করেন। তারাই আসামীর বাড়ি ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে সবকিছু জ্বালিয়ে দেয়।
 
এসময় গ্রামের মানুষজন শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। বহিরাগত লোকজনই আসামীকে পুলিশের কাছে থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং তারাই পুলিশের ওপর হামলা চালায় ও গাড়ি ভাংচুর করে। এখন এলাকায় গ্রেপ্তার আতংক বিরাজ করছে। অধিকাংশ পুরুষ ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্রে চলে গেছে। বাড়িতে শুধু মহিলা ও বয়স্করাই অবস্থান করছেন।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক একজন কৃষক জানান,’ বহিরাগতদের উগ্র আচরণে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। বহিরাগতদের উগ্র আচরণের কারনে এখন গ্রামের মানুষজন মহাবিপদে পড়েছেন। পুলিশ ও গোয়েন্দার লোকজন সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত হামলাকারীদের নাম ও ঠিকানা বের করতে পারবে। আমরা গ্রামের সাধারন মানুষ। আমরা শান্তিতে বাঁচতে চাই।’

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী দৃবৃত্তদের সনাক্ত করা হচ্ছে। পুলিশ দুই মামলায় ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাতে কোন নিরাপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় পুলিশ সেদিকে সতর্ক রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় অনেকের কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

Share: