পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সাংবাদিক, পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাত ২টার দিকে জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
আহত সাংবাদিকরা হলেন আমার দেশ-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম এবং দৈনিক সময়-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায়।
শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের মেস থেকে এক জোড়া জুতা চুরি হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে স্থানীয় মাইকেল নামে এক ব্যক্তিকে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে দেখা গেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে আটক করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন এসে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এর প্রতিবাদে কয়েকশ শিক্ষার্থী মুরগিটোলা মোড়ে জড়ো হন। হামলাকারীরা একটি বাসায় অবস্থান করছেন—এমন খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা ওই বাসা ঘেরাও করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জ করলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ও দায়িত্ব পালনরত দুই সাংবাদিক আহত হন।
আহত সাংবাদিক লিমন ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লাঠিপেটা করেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, গেন্ডারিয়া থানার ওসি তাকে জানিয়েছেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে মারধর করতে উদ্যত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
ঘটনার পর রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জুতা চুরির ঘটনায় মাইকেল ও আশিকুর রহমান আশিক নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করা হয়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।