বাংলাদেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এবং তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন মন্ত্রী। শুক্রবার (১৯ জুন) লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী এলাকায় অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প এলাকায় সফর করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা, সেচ কার্যক্রম, পানি ব্যবস্থাপনা এবং চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখেন।
পরে ব্যারাজের ‘অবসর’ হলরুমে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারা।
সভায় তিস্তা অববাহিকার নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, সেচ ব্যবস্থাপনা, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীরা বলেন, তিস্তা ব্যারাজ শুধু একটি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নয়- এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
একসময় খরা ও পানির সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলে আজ তিস্তার সেচের পানি লক্ষাধিক হেক্টর জমিতে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করেছে। এক ফসলি জমি বহু ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে এবং কৃষকদের জীবনমানেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
সফরের অংশ হিসেবে মন্ত্রীরা তিস্তা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর দুর্ভোগ এবং স্থায়ী নদীশাসনের দাবি মন্ত্রীদের সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সফরের মাধ্যমে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান এবং রোকন উদ্দিন বাবুল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ.কে.এম. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. এনায়েত উল্লাহ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিক ল্পনা, নকশা ও গবেষণা) প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. সরফরাজ বান্দা, তিস্তা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র জানান, মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র জানান, মন্ত্রীদের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
উল্লেখ্য, তিস্তা ব্যারাজ দেশের অন্যতম বৃহৎ সেচ প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের কৃষি বিপ্লব, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে এর অবদান অপরিসীম। তাই তিস্তা ব্যারাজকে শুধু একটি প্রকল্প নয়, বরং উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।