Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

Home Ad
collapse
Home / খেলাধুলা / ভারত-বাংলাদেশের বাজে সম্পর্কের বলি মোস্তাফিজ - Chief TV

ভারত-বাংলাদেশের বাজে সম্পর্কের বলি মোস্তাফিজ - Chief TV

2026-01-03  ডেস্ক রিপোর্ট  126 views
ভারত-বাংলাদেশের বাজে সম্পর্কের বলি মোস্তাফিজ - Chief TV

২০০০ সালের নভেম্বরে ঢাকার তৎকালীন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ভারত—যা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কারণ, টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল ভারতই।

তৎকালীন আইসিসি সভাপতি জাগমোহন ডালমিয়ার সক্রিয় সমর্থনের ফলেই ২০০০ সালের ২৬ জুন সর্বসম্মত ভোটে বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা লাভ করে। এর নেপথ্যে বড় অনুপ্রেরণা ছিল ১৯৯৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স, বিশেষ করে পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারানো। ওই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ প্রথমবার অংশ নেয়, আর পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলেছিল।

প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ভারতকে বেশ চাপের মুখে ফেলে দিয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত নয় উইকেটে হেরে যায় দলটি, তবু লড়াকু মানসিকতা আর সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়ে প্রমাণ করে দেয়—পাঁচ দিনের ক্রিকেটে তারা জায়গা করে নেওয়ার যোগ্য। এরপর বাংলাদেশের টেস্ট যাত্রা খুব দ্রুত এগোয়নি ঠিকই, তবে মাঝেমধ্যেই এসেছে স্মরণীয় সাফল্য।

দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল সেই সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে মাঠের লড়াইও গত এক দশকে আরও সংবেদনশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা আর গোপন নয়। গত বছরের আগস্টে সহিংস গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন কৌশল গ্রহণ করে। এ সময় বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠায় ভারত কূটনৈতিকভাবে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।

এই প্রেক্ষাপটেই আইপিএল ২০২৬ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়তে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বিসিসিআইয়ের নির্দেশকে দেখতে হচ্ছে। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক মিনি নিলামে মোস্তাফিজই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার, যাকে নিয়ে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যায়। চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায়।

নিলামের পরপরই ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাংলাদেশি ক্রিকেটার কেনায় কেকেআরের সহ-মালিক শাহরুখ খানকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে শনিবার বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।

এর ফলে পাকিস্তানের পর বাংলাদেশ হয়ে উঠল দ্বিতীয় দেশ, যাদের ক্রিকেটাররা আপাতত আইপিএলে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে। ২০০৮ সালের প্রথম আইপিএলে একাধিক পাকিস্তানি ক্রিকেটার খেললেও, সে বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। মোস্তাফিজ ইস্যু সেই নিষেধাজ্ঞার ছায়া বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ওপরও পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাই তৈরি করছে।

দুই বোর্ডের সম্পর্কে টানাপোড়েন প্রথম স্পষ্ট হয় গত জুলাইয়ে, যখন ভারতের সাদা বলের বাংলাদেশ সফর পিছিয়ে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। বিসিসিআই তখন জানায়, দুই বোর্ডের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিসিবি ওই স্থগিত সফরের নতুন সূচি প্রকাশ করলেও বিসিসিআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সফরটি আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ইস্যু ও ইউনূস সরকারের পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার উদ্যোগ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উপস্থিতি কখনোই খুব বেশি ছিল না। সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন ব্যতিক্রম। সাকিব ৭১টি ম্যাচ খেলেছেন, যার বড় অংশই কেকেআরের হয়ে। আর মোস্তাফিজ ৬০ ম্যাচে নিয়েছেন ৬৫ উইকেট। ৩০ বছর বয়সী এই পেসারের জন্য হঠাৎ করে এমন বড় সুযোগ হারানো নিঃসন্দেহে কঠিন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্ত খুব একটা অপ্রত্যাশিত বলেই মনে করছেন অনেকেই।

গত সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়—বর্তমান বাস্তবতায় খেলাধুলা আর রাজনীতিকে আলাদা করে দেখা যাচ্ছে না। মোস্তাফিজ ইস্যু সেই বাস্তবতারই আরেকটি প্রতিফলন।


Share: