আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যদি আবারও কোনোভাবে ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা ফেসবুকে নিজেদের প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের জীবন ‘কালো’ করে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংসদ সদস্য রানুর এই বক্তব্য অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত আইনপ্রণেতাদের মাঝে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ সময় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে প্রধান বিরোধী দলের (জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো বিরোধী দল) কঠোর সমালোচনা করে রেহানা আক্তার রানু বলেন, “এই সরকারের বয়স মাত্র ৪ মাস। এর মধ্যেই বিরোধী দল বলছে আরেকটি রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে।
বাজেট আলোচনার একপর্যায়ে প্রধান বিরোধী দলের (জাতীয় পার্টি বা অন্য কোনো বিরোধী দল) কঠোর সমালোচনা করে রেহানা আক্তার রানু বলেন, “এই সরকারের বয়স মাত্র ৪ মাস। এর মধ্যেই বিরোধী দল বলছে আরেকটি রাজনৈতিক আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে।
আমি ওনাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখুন এবং তাকে রাষ্ট্র সংস্কারে সহযোগিতা করুন।
আপনাদের অনেকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে আবারও যদি দানব হাসিনা— আল্লাহ না করুক, আল্লাহ না করুক— এ দেশে ফিরে আসে, তবে যারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের জীবন সে কালো করে ছাড়বে।”
বক্তব্যের শেষাংশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এবং সেখানে বন্দিদের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এই সংসদ সদস্য।
বক্তব্যের শেষাংশে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এবং সেখানে বন্দিদের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন এই সংসদ সদস্য।
তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, “কিছুদিন আগে আমরা গণমাধ্যমে ‘আয়নাঘর’ দেখেছি। সেখানে একটি বিশেষ চেয়ার দেখা গেছে, যে চেয়ারে আটকে রেখে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও রাজবন্দিদের অমানুষিক ইলেকট্রিক শক (বৈদ্যুতিক শক) দেওয়া হতো।
সংসদের মাধ্যমে আমার সুনির্দিষ্ট দাবি, শেখ হাসিনাকে বিদেশ থেকে আইনগত প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে ঠিক ওই চেয়ারে বসিয়েই ইলেকট্রিক শক দেওয়া হোক, যাতে তিনি ভুক্তভোগীদের কষ্ট অনুধাবন করতে পারেন।