প্রযুক্তির ভিড়ে যেখানে স্মার্টওয়াচ ও ফিটনেস ট্র্যাকার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, ঠিক তখনই বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকি (Nike) এনেছে এক অভিনব উদ্ভাবন। কোনো ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ছাড়াই তৈরি এই ‘মাইন্ড’ সিরিজ জুতো মনোযোগ বাড়ানো এবং মানসিক স্বস্তি দেওয়ার দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর থেকেই জুতোটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনলাইন স্টোরে নতুন করে কেনার জন্য ইতোমধ্যে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ নাম নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি রিসেল বাজারেও এটি উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।
নাইকির দাবি অনুযায়ী, জুতোর বিশেষ নকশা এবং তলার গঠনই এর মূল প্রযুক্তি। এতে থাকা ২২টি ফোম-জাতীয় ‘বাটন’ হাঁটার সময় পিস্টনের মতো কাজ করে, যা পায়ের স্পর্শ ইন্দ্রিয়ের ওপর নির্দিষ্ট চাপ সৃষ্টি করে। এই উদ্দীপনা মস্তিষ্কের সেন্সরিমোটর নেটওয়ার্ক সক্রিয় করে এবং নেতিবাচক চিন্তা প্রশমিত করে মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে বলে দাবি গবেষকদের।
নাইকি স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাবের প্রধান গবেষক গ্রায়েম মফাট জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণার ভিত্তিতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। তার মতে, এই বিশেষ চাপ ব্যবহারকারীর মধ্যে এক ধরনের ‘স্বস্তিদায়ক সতর্কতা’ তৈরি করে।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের লাফবরো ইউনিভার্সিটির পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি বিষয়ের অধ্যাপক ড. ইশারা ধর্মসেনা মনে করেন, এই ধারণার সঙ্গে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির কিছু মিল রয়েছে। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের নিষ্ক্রিয় প্রযুক্তি বা ‘প্যাসিভ নিউরো-উইয়ারেবল’, যা প্রচলিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছাড়াই শরীর ও মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে গবেষকদের একাংশ সতর্কও করেছেন। ড. ধর্মসেনার মতে, দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্ক নতুন এই অনুভূতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে, ফলে সময়ের সঙ্গে জুতোর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নাইকির এই উদ্ভাবন ফ্যাশন ও ক্রীড়া জগতে ‘পরিধানযোগ্য সুস্থতা’ বা ওয়্যারেবল ওয়েলনেসের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু নাইকি নয়, ইলেকট্রনিক ছাড়াই শরীর ও মনকে সক্রিয় রাখার এমন প্রযুক্তি নিয়ে এখন কাজ করছে নাবোসো, সিয়ান এবং কোপার্নির মতো বিভিন্ন ব্র্যান্ডও