মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যে চার মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তির পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তির আভাস দেখা গেছে। চুক্তির ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও ট্যাঙ্কার ও কার্গো জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কমেছে। এর প্রভাবেই ব্রেন্ট নর্থ সি ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ২ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত পূর্বাভাস বৃদ্ধি এবং চলতি বছর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত ডলারের মানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ইউরোর বিপরীতে ডলারের অবস্থান শক্ত হয়েছে। ইউরোর বিনিময় হার ১ দশমিক ১৪৯৪ ডলার থেকে কমে ১ দশমিক ১৪৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।
এছাড়া ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতেও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে জাপানি ইয়েনের বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার ১৬০ দশমিক ৭১ ইয়েন থেকে বেড়ে ১৬০ দশমিক ৮৪ ইয়েনে উন্নীত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।