পৌষের শেষের দিকে জেঁকে বসেছে শীত, মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জে ছিল মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজশাহীতে হিমেল হাওয়ার সঙ্গে কুয়াশা কম থাকলেও শীতের তীব্রতা বেড়ে জনজীবন স্থবির হয়েছে। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের শীতের ভোগান্তি বেড়েছে। ঠান্ডাজনিত রোগে রাজশাহীর হাসপাতালগুলোতে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় টানা শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন কষ্টে, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ ও শীতজনিত সমস্যায় মানুষ সকালে কাজের তাগিদে বাইরে বের হচ্ছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আগামী রবিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও শৈত্যপ্রবাহ পুরোপুরি শেষ হবে না এবং শীতের তীব্রতা জানুয়ারি মাস জুড়ে থাকবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। মঙ্গলবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭.৫ ডিগ্রি, পাবনায় ৮.৫, যশোরে ৯.২, পঞ্চগড়ে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড হয়েছে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, জানুয়ারি মাসে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি হতে পারে তীব্র।
আগামী পাঁচ দিনে দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, মাঝে মাঝে কুয়াশা পড়তে পারে। যা বিমান চলাচল ও সড়ক যোগাযোগে সাময়িক ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়বে।