রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন কাউনিয়ার একাধিক মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকলেও সরকারি নিয়মিত বরাদ্দ উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধন ও নজরদারির অভাবে এসব সংস্থার কার্যক্রম এখন শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।
জানা গেছে, নারী উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গঠিত এসব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনেকগুলোরই বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। নিয়মিত সভা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, উপকারভোগী নারীদের ঋণ সহায়তা কিংবা সচেতনতামূলক কর্মসূচি মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। অথচ কাগজপত্রে সব কার্যক্রম সচল দেখিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা ইয়াসমিনের যোগসাজশে সরকারি বরাদ্দ ও অনুদানের অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে ২০০০ সালে সংগঠন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতাধীন রেজিস্ট্রেশন ভুক্ত হলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা ইয়াসমিন কাগজ কলমে পরিদর্শন দেখালে মাঠ পর্যায়ে একদিনও যাননি,
স্থানীয় একাধিক নারী জানান, সংস্থার নাম থাকলেও বাস্তবে তারা কোনো সহায়তা পাননি। এতে করে সরকারের নারী উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব সংস্থার তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিয়মিত পরিদর্শন ও কার্যক্রম যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং দায়বদ্ধতার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত কার্যক্রমহীন মহিলা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর তালিকা প্রণয়ন করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি প্রকৃতভাবে সক্রিয় ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
রেবেকা ইয়াসমীন বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রংপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরেরউপপরিচালক (অঃ দাঃ)মোছাঃ সেলোয়ারা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।