স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকা বগুড়ার দুটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ প্রশাসনিক জবাবদিহি ও মন্ত্রীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে ইউনিয়নগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ নাম তিনটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
সমালোচকদের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ী’ এবং তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত ও মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নাম অনুসারেই ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রধানমন্ত্রীর নাম পরিবর্তনের নির্দেশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। বিভিন্ন ব্যবহারকারী পোস্ট করে এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং বিতর্কিত নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে সমালোচনারও কমতি নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি নামকরণে অনিয়ম বা বিতর্কের সুযোগ থেকে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কেন বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। কেউ কেউ মন্ত্রিপরিষদ শাসিত ব্যবস্থায় দায়িত্ব বণ্টন ও জবাবদিহি নিয়েও মতামত দিয়েছেন।
এর আগে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেছিলেন, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যাচাই-বাছাই এবং গণশুনানির ভিত্তিতেই ইউনিয়নের নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিলকে তিনি কাকতালীয় বলে উল্লেখ করেন।
তবে সেই ব্যাখ্যা জনমনে বিতর্ক কমাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসলে প্রধানমন্ত্রী নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নতুন করে গণশুনানির আয়োজন করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নাম চূড়ান্ত করা হবে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।