Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / নীলফামারী / আগুন ঝরা প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV

আগুন ঝরা প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV

2026-07-04  মো: জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি  45 views
আগুন ঝরা প্রখর রোদ আর তীব্র গরমে সৈয়দপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত - Chief TV
রোদ নয় যেন আগুন ঝরছে। এতটাই প্রখর রোদের প্রকোপে পুড়ছে চারপাশ। সূর্যের রুক্ষতার সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে তীব্র ভ্যাপসা গরম। বাতাসহীন প্রকৃতির এমন বৈরী আচরণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সামান্য শীতলতার জন্য সে কি হাহুতাশ। ঠান্ডা পানীয়ের অভাবে প্রাণ যেন ওষ্ঠাগত। মানুষের সাথে প্রাণীকুলেও দেখা দিয়েছে চরম ভোগান্তি।

এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে নীলফামারীর সৈয়দপুরসহ পুরো উত্তরবঙ্গে। গত কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত আগুনঝরা প্রখর রোদ পড়ছে। সূর্য যেন তার সব আক্রোশ একত্রিত করে ঢেলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে। চার পাশ জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাওয়ার উপক্রম। তাপে দগ্ধ হয়ে রাস্তা ও বাসা বাড়ির ছাদ-দেয়াল ও টিনের চাল জ্বলন্ত কড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে।

এমতাবস্থায় গাছ পালাও যেন থমকে গেছে। একারণে বাতাস না থাকায় গরমের তীব্রতাও চরম আকার ধারণ করেছে। বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়েও মিলছেনা স্বস্তি। বরং চারপাশ থেকে গরম বাতাসই বয়ে আনছে ফ্যান।
 
এসি ও কুলার দিয়েও আরামদায়ক শীতলতা আসছেনা। ঠান্ডার জন্য হাহাকার ঘরে বাইরে। তাই তৃষ্ণা মিটাতে বার বার ঠান্ডা পানি, শরবত, আইসক্রিম, আখের রস, ডাবের পানি সহ নানা পানীয় খাওয়ার হিড়িক পড়েছে।

রোদের প্রখরতার কারণে মানুষ বাসার বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকছে। বিশেষ প্রয়োজনে যারা বের হচ্ছে তারাও রোদ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। ফলে রাস্তাসহ বাজার প্রায় জনশূন্য।
 
শুধু পানীয়ের দোকানগুলোতে তৃষ্ণার্ত মানুষের ভীড়। ছায়াযুক্ত স্থানে মানুষসহ পশুরাও ছুটছে। কিন্তু বাতাস না থাকায় সেখানেও বাড়ছে উঞ্চতা। সুইমিং পুলসহ পুকুর ও খালে গোশল করে গরম নিবারণের চেষ্টায় অনেকে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের লোকমান হাকিম হোসেন জানান, শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ৯ টায় তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দুপুর নাগাদ ৩৭ ডিগ্রি ৪ সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।
 
সন্ধ্যা ৬ টায় আবার আবহাওয়া পরিমাপ করার পর গড় তাপমাত্রা নির্ধারণ করা হবে। তবে গত ২ দিন সৈয়দপুরে গড় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ও ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যের প্রখরতা বেশি তাই তাপমাত্রাও বাড়তে পারে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নাজমুল হুদা বলেন, গত কয়েকদিন থেকে গরমের কারণে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
 
এর মধ্যে শিশু ও বয়ষ্ক রোগীই বেশি। শনিবার হাসপাতালের আউটডোরে প্রায় আড়াই শতাধিক রোগীর আগমন ঘটে। এছাড়া প্রায় দেড় শতাধিক রোগী ভর্তি আছে। গরমের কারণে হার্ট অ্যাটাক করে ৬ জন গুরুতর রোগী ভর্তি হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর শ্রেণির লোকজন কাজে বের হয়ে মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। সামান্য কাজ করতেই ঘেমে একাকার হওয়াসহ তীব্র পিপাসায় নিপতিত হচ্ছেন।
 
বার বার পানি খেয়ে ও হাত মুখ ধুয়েও স্বস্তি পাচ্ছেন না। ফলে কাজ করাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রিকশা চালকরা এক দুইটা ভাড়া মেরেই ছায়াযুক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে জিড়িয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশান্তি মিলছেনা। ফলে আর কাজে যাওয়ার উদ্যোম পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে বাসা বাড়িতে থেকেও আরামেই নেই শিশু-বৃদ্ধ-নারী ও অসুস্থরা। রোদ ও তাপের তীব্রতার সাথে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের লোডশেডিংও বেড়েছে। একারণে বিদ্যুৎ না থাকায় যেমন গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
 
তেমনি রান্না করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতায় পড়ছেন। আবার ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সব মিলিয়ে চরম দূরাবস্থায় কাটছে দিনরাত। একইভাবে গৃহপালিত পশু পাখি নিয়েও ভোগান্তির শেষ নেই।

Share: